সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ও খাবারের হোটেলসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে সাজেকের ‘গরবা’ রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং ছিল। কিন্তু আঞ্চলিক দুটি দলের সশস্ত্র সংঘাতের কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
পরিবহন নেতা নুরুল আজিম বলেন, সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্গত হলেও সড়কপথে সেখানে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। ফলে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে খাগড়াছড়ির পরিবহন ব্যবসা ও স্থানীয় কেনাকাটাও জড়িত।
তরুণ রাজনীতিক মো. আসাদ বলেন, আঞ্চলিক দুটি দলের আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের মধ্যে সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রকে জিম্মি করা হচ্ছে। দ্রুত পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়া না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সাজেক রক্ষা কমিটির নেতা বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, সশস্ত্র ব্যক্তিদের উচ্ছেদের দাবিতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে আগে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রতিশ্রুতি রাখেনি। পর্যটন, ব্যবসা ও পরিবহন খাতের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মানববন্ধনের পর একটি প্রতিনিধিদল খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতের মাধ্যমে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়।
গত ১১ অক্টোবর জননিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলছে।
The post সাজেক খুলে দিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
