যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ও যোগাযোগের সাবমেরিন কেবলগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনের বরাতে সৌদি গ্যাজেট এ তথ্য জানিয়েছে। তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এ হুমকি দেন।
মোহেব্বির দাবি, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগাযোগের কেবল গেছে। ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যপ্রবাহের বড় অংশ এসব কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচন করা হবে। নতুন অস্ত্রও সামনে আনা হবে।’
এ সময় ওই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির অবশিষ্ট উপস্থিতি সরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো এসব স্থাপনাকে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি।’ তবে সংঘাত শুরু হলে এসব অবকাঠামো ধ্বংস করা হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে স্থাপনাগুলোতে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ও ক্লাউড সেবায় সমস্যা দেখা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে তথ্য পরিবহনের সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তথ্য যোগাযোগ ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের নৌপথ ও উপকূলীয় এলাকায় ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর প্রভাব থাকায় সেখানেও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ছাড়া সামরিক অভিযান চলমান এমন জলসীমায় সমুদ্রতলের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো মেরামত করাও কঠিন হতে পারে। বিশেষায়িত কেবল মেরামতের জাহাজগুলো নিরাপত্তাঝুঁকি ও চলাচলে বিধিনিষেধের মুখে পড়লে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এমএ
