বলিউডের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ওয়ার’ পর্বে সুপারস্টার সলমান খানের করা এক কড়া মন্তব্যের জেরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। রবিবার সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে অভিনেতা সলমান খান ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে চলা পেইড নেগেটিভ পিআর এবং সিনেমা ফ্লপ হওয়ার পর তারকাদের ট্রোল করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই প্রতিবাদের ঠিক পরেই, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার এক ঝাঁজালো সাক্ষাৎকারে বলিউড ভাইজানের সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিখ্যাত ব্যান্ড ‘ইউফোরিয়া’-র প্রধান গায়ক ও অভিনেতা পলাশ সেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ‘স্ক্রিন’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পলাশ সেন বিনোদন দুনিয়ার রূঢ় বাস্তব তুলে ধরে দাবি করেন যে, সলমান খান নিজে সাধু সাজার চেষ্টা করলেও তিনি আদতে এই সংস্কৃতির শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাঁর মতে, কাঠামোর নিচ থেকে কখনো সমস্যার সৃষ্টি হয় না, বরং পচন সবসময় ওপরের তলা থেকেই শুরু হয়। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে বহু দশক ধরে রাজত্ব করা তারকারাও যে এই পিআর এজেন্সিগুলোর সাথে নিয়মিত খেলা খেলেছেন, তা আজ কারোরই অজানা নয় বলে মন্তব্য করেন এই সঙ্গীতশিল্পী।
সলমানের সাম্প্রতিক ওই বক্তব্যের সাহসিকতাকে খানিকটা সাধুবাদ জানালেও পলাশ প্রশ্ন তোলেন তাঁর সততা নিয়ে। সোমবার এক বিশ্লেষণে তিনি যোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে হঠাৎ একদিন এমন নীতিবাক্য আওড়ানো মানায় না। এমনকি জনপ্রিয় এই শোয়ের মঞ্চে সলমানের ওই দীর্ঘ ক্ষোভ প্রকাশ করাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নাকি পুরোটাই কোনো পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্টেড নাটক, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘বিগ বস’-এর সেই বিশেষ পর্বে সলমান খান সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, ট্রোলিং সংস্কৃতি এবং ক্যাটরিনা কাইফের মাতৃত্বকালীন ওজন বৃদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। পাশাপাশি, অর্থ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী তারকাদের ছোট করা এবং টাকার বিনিময়ে ছবির ভুয়া ইতিবাচক রিভিউ নেওয়ার ঘটনাকে চরম দুর্নীতি বলে অভিহিত করেছিলেন বলিউড সুলতান। সলমানের এই বিস্ফোরক বার্তার পরেই পলাশ সেনের এই পাল্টা আক্রমণ বলিউড পাড়ায় নতুন করে প্রোপাগান্ডা এবং পিআর গেমের অন্ধকার দিকটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু করে দিয়েছে।
পেশাগত জীবনে চিকিৎসক থেকে সংগীতের দুনিয়ায় পা রাখা পলাশ সেন ১৯৯৮ সালে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর আইকনিক ব্যান্ড ‘ইউফোরিয়া’। ‘ধুম পিচাক ধুম’ কিংবা ‘মাইরি’-র মতো কালজয়ী গান উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তাবুর সাথে ‘ফিলহাল’ ছবিতে অভিনয় করা এই শিল্পী সম্প্রতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তাঁদের নতুন অ্যালবাম ‘ধুমসডে’ প্রকাশের মাধ্যমে সংগীতের দীর্ঘ পথচলার তিন দশক উদ্যাপন করেছেন। শিল্পের এই দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতাই তাঁকে বলিউডের ভেতরের অন্ধকার সত্যিগুলো নিয়ে মুখ খুলতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।
