দেশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজ ছয় শিশু উদ্ধার এবং আট কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকার সোনা ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এপিবিএন গত সেপ্টেম্বরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন, তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, তিনটি হ্যাকড ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং একটি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার দুই লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোনা উদ্ধারের বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪.৩৪৪ কেজি স্বর্ণের বার-অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য আট কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ-সংক্রান্ত ২২টি মামলা দায়ের এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিষিদ্ধঘোষিত সামুদ্রিক কাঁকড়া উদ্ধার ৪৪০ কেজি, তামার তার উদ্ধার আট কেজি ৫০০ গ্রাম, কসমেটিকস ১০৬২ কেজি, এলইজি মনিটরসহ জিপিএস ট্রেকার-ফ্যান-সোলার প্যানেল ব্যাটারি উদ্ধার, তিনটি, কারেন্ট জাল ৭৫০ ফুট (১৫ কেজি), মোটরসাইকেল তিনটি, শাড়ি-থ্রিপিস ২৭৭ পিস, খাদ্যদ্রব্য ৩০৯ কেজি, ফেব্রিকস ২৬২ কেজি, মেডিসিন দুই কেজি, ইমিটেশন জুয়েলারি ১০ কেজি, চোরাই মালামাল বিক্রির ৫২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রা ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ ছয়জন শিশু, ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার, একটি মামলা এবং এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক পরিচালিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে একটি ওয়ান শ্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি এবং দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ-সংক্রান্তে একটি মামলা ও একজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬.০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭.২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট এবং মাদক বিক্রির ৫৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।