বাবার নিথর দেহ কফিনবন্দি। শেষবারের মতো বাবাকে কাছে পেয়ে সেই কফিন আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল দুই শিশু সন্তান। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠল বাড়ির পরিবেশ। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো মো. শাহেদ আহম্মেদ আশিকের (৩২) মরদেহ ১৩ দিন পর ফিরল বগুড়ার শাজাহানপুরের গ্রামের বাড়িতে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আশিকের কফিনবন্দি মরদেহ উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় বাবার কফিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই শিশু সন্তান কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬)।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান প্রবাসী আশিক। দীর্ঘ ১৩ দিন পর তার মরদেহ দেশে ফিরলেও পরিবারে ফিরেছে স্বজন হারানোর শোক।
শুক্রবার দুপুরে আশিকের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও শেষবারের মতো তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন। কান্না আর আহাজারিতে শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো বাড়ি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার আসরের নামাজের পর স্থানীয় সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আশিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, মরদেহ ফেরত আনার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি কাজ করেছি। নিহত প্রবাসীর পরিবার যেন দ্রুত সরকারি নগদ আর্থিক অনুদান পায়, সে বিষয়ে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
