Published on
:
2 min read
পশ্চিম মেদিনীপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো একই পরিবারের চারজনের। মৃত চারজনেই একে অন্যের আত্মীয়। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে মোহনপুর থানা এলাকার বাদশাপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত চার জনের নাম বদির মল্লিক (৪৫), বদিরের বোন নাজেরা বিবি (৩৮), নাজেরার ছেলে শেখ রবিউল (২৫) এবং প্রতিবেশি সেখ শোয়েব (২৭)। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোহনপুর ব্লকের শিয়ালসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের আঁতলার কাছে বাদশাপুর গ্রামে শেখ ফারজানের বাড়ি। ফারজানের শ্যালক বদির পেশায় মিস্ত্রি। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা তাঁর পেশা। তিনি তাঁর স্ত্রী নাজেরাকে জানিয়েছিলেন, যাতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার জন্য বদিরকে বলা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারও করে ফেলেন তিনি। ট্যাঙ্কের নীচে একটি কাঠের পাটা পড়েছিল। সেটি তোলার জন্য নীচে নামেন। তখন তাঁর বোন নাজেরা সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন। কাঠের পাটাতন তুলতে গিয়ে তিনি পড়ে যান। আর উঠতে পারেননি। তখন চিৎকার করে ছেলেকে ডাকেন নাজেরা। ছেলে আসার আগেই দাদাকে বাঁচাতে বোন ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন। তিনিও আর উঠতে পারেননি। এবার মাকে বাঁচাতে সেখানে যায় ছেলে রবিউল। তাঁরও একই অবস্থা হয়। তখন প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হন। সবার আগে অন্যদের বাঁচাতে শোয়েব নীচে নামেন। তিনিও সেখানে জ্ঞান হারান।
প্রতিবেশি রুবেল শেখ, বলেন, ‘একজনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যজনের মৃত্যু হয়। পরপর চারজনের মৃত্যু ঘটে। পরে আমরা সকলে নেমে উদ্ধার করি।’ খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে হাজির হয়। চারজনকেই নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় বাগদা হাসপাতালে। সেখান থেকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্যাঙ্কের গ্যাস থেকেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ট্যাঙ্কের ভেতরেই সকলের মৃত্যু ঘটেছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এভাবে পরপর চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক গ্রামবাসীরা।
