বাউল গানের আসরে মহিলা শিল্পীরা অংশ নিলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে, এমনই গুঞ্জন ছিল। এবং ক্রমশ তা জোরালো হতে থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছিল অনুষ্ঠানটি। কিন্তু শেষপর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাউল গানের আসর সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে নারী শিল্পীরাও অংশ নেন এবং কোনও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকারের আমলেও এমনই আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা ব্রিটেন প্রবাসী শওকত আলি তার বাড়ির আঙিনায় ঘরোয়াভাবে এই গানের আসরের আয়োজন করেন। স্থানীয় দুই নারী বাউলশিল্পী তানিশা ও নীলারও গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়েদের দিয়ে গানবাজনা করানো যাবে না বলে আপত্তি তোলেন স্থানীয়দের একাংশ। গত বুধবার তাঁরা দিরাই থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদন করেন আতাহার আলি ও কামরুল হাসান নামে দুই ব্যক্তি।
জানা যাচ্ছে, অভিযোগ পাওয়ার পরদিনই পুলিশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘ধর্মীয় অনুভূতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গানের আসর বন্ধের আবেদন জমা পড়েছিল। এ নিয়ে আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলি। আপত্তির কারণে আয়োজক প্রথমে গান বাতিল করতে চাইলেও বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে তিনি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সেখানে নারী শিল্পীরাও অংশ নেন এবং কোনও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।’’
গানের আসর শুরুর আগেই শওকত আলি দাবি করেন, একপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘একটি মহল প্রচার করেছিল আমি যাত্রা বা ঘেঁটু গানের আয়োজন করছি। এরা শিক্ষিত হলেও উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। তবে ওদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। মানুষ দেখেছে আমরা শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চাই করেছি।’
এদিকে থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও তাঁরা কোনও ধরনের বাধার সৃষ্টি করেননি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী কামরুল হাসান মিটু। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামে শতকরা একশো ভাগ মুসলমানের বাস, যেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ওলির মাজার রয়েছে। পূর্বে কখনও এভাবে নারী শিল্পীদের দিয়ে গান করানো হয়নি। আমরা সার্বিকভাবে গানের বিরুদ্ধে নই, শুধু অশালীনতার আশঙ্কায় আইন মেনে অভিযোগ করেছিলাম। অনুষ্ঠান কোনও রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শেষ হয়েছে।’’
