

টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি শেষে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে খুলছে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে ব্যাংক ও আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ছিল। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুর্গাপূজার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছিল সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়া হয়।
এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ ছিল অফিস-আদালত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল ছুটির শেষ দিন। ছুটি শেষে আজ রোববার থেকে আবারও শুরু হচ্ছে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা।
স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে প্রধান ও উপদেষ্টা নিয়োগের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও সেটি বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিধান রাখা সম্ভব কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে। উচ্চকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়ার ধারণাও এসেছে বলে জানান তিনি। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় আসা ধারণাগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন ও কর্মপরিধি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব এলে সেগুলোও কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পের বিধান বাদ দিয়ে কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে। কমিটি সব মতামত পর্যালোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে চায়। আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া এবং মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানবিষয়ক কমিটির মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। সংসদের উচ্চকক্ষ আদৌ প্রয়োজন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কেউ কেউ। উচ্চকক্ষের পরিবর্তে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ধারণাও আলোচনায় এসেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হয় কি না, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির মত ছিল, আদালতের রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া সংবিধিবদ্ধ কিছু প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি কাঠামোর ধারণাও তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন ও কর্মপরিধি এমনভাবে নির্ধারণ করা যায় কি না, যাতে সেগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার মতো এবারও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তখন একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা ছিল, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, রাগীব রউফ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।

ছোটবেলার বন্ধুত্ব, দাফন হলো একসঙ্গে
ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, চলাফেরাও ছিল একসঙ্গে। সেই দুই বন্ধুর জীবন থেমে গেল একই সড়ক দুর্ঘটনায়। নরসিংদীর রায়পুরায় নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিরব মিয়া (১৭) ও জীবন মিয়া (১৭) নামে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিরব মিয়া রাধানগর ইউনিয়নের সাহারচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। একই এলাকার জায়েদুল মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া। তাদের বাড়ি পাশাপাশি। ছোটবেলা থেকেই তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। দুই কিশোরের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা জানান, শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে নরসিংদী শহরে ঘুরতে গিয়েছিল নিরব ও জীবন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে হাসনাবাদ এলাকায় চলন্ত একটি নছিমনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা দুজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, শুক্রবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল। নিরবের মামা সুমন পারভেজ বলেন, নিরব ও জীবন ছোটবেলা থেকেই বন্ধু ছিল। তারা সব সময় একসঙ্গে থাকত। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুও একসঙ্গেই হলো। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোরের মৃত্যুর খবর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জানাজা শেষে নিরব ও জীবনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে: ঢাকা জেলা প্রশাসক
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) আয়োজিত ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফরিদা খানম বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসংগতি তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাই করা জরুরি। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। ডিজিটাল সাংবাদিকতার দ্রুত বিস্তারের এ সময়ে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এমআরইউ সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম বলেন, প্রযুক্তির বিকাশে সাংবাদিকতার ধরন বদলে গেছে। এখন একটি মোবাইল ফোন দিয়েই সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও সম্পাদনা ও প্রকাশের কাজ করা সম্ভব। একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিককে অনেক সময় একাই এসব দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সংবাদকর্মীদের নিয়ে গঠিত এমআরইউ মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের একত্রিত হওয়া, প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী কার্যালয় বা ঠিকানার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমআরইউ উপদেষ্টা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, এমআরইউ সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন, সংগঠনের উপদেষ্টা সফিউর রহমান শফিকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। উল্লেখ্য, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

‘কন্যাকে রক্ষায় বিচারের অপেক্ষা না করেই থাপ্পড়ের অধিকার রাখে বাবা’
যেকোনো পিতাই তার কন্যাকে যেকোনো পশুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি মারার ক্ষমতা রাখেন- এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে মাহবুব কবির মিলন লেখেন, যেকোনো পিতাই তার কন্যাকে যেকোনো পশুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি মারার ক্ষমতা রাখেন, বিচারের অপেক্ষা না করেই। এটা হিট অব দ্য মোমেন্ট। আমি হলেও তাই করব বা আরও বেশি করব। পোস্টে তিনি বিদেশে শিশুদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সীমানা এবং শিশু সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। সিঙ্গাপুরের একটি নির্জন সড়কের যাত্রীছাউনিতে পাঁচ-ছয় বছরের একটি মেয়েকে একা বসে থাকতে দেখে তার কাছে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি হারিয়ে গেছে কি না বা কোনো বিপদে পড়েছে কি না, তা জানতে কাছে যেতে চাইলে সিঙ্গাপুরের এক নাগরিক তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। ওই ব্যক্তি তাকে জানান, সেখানে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল এবং কোনো বিপদ হলে পুলিশকে জানানোই যথাযথ পদক্ষেপ। অপরিচিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুর কাছে গেলে সন্দেহের মুখেও পড়তে পারেন। আরেকটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহবুব কবির মিলন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত তার ছোট বোনের মেয়ে ছোটবেলায় দেশ ছেড়ে সেখানে চলে যায়। পরে পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাংলাদেশে বেড়াতে এলে তিনি ভাগনির মাথায় স্নেহের চুমু দিয়েছিলেন। ঘটনাটি শিশুটি তার মাকে জানায় এবং প্রশ্ন করে, ‘খালু আমাকে টাচ করেছে কেন?’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মায়ের সামনেই তিনি আদর করেছিলেন। বিদেশে শিশুদের ব্যক্তিগত সীমানা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, আইন ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ এসব দেশের উন্নতির অন্যতম ভিত্তি। দেশের সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহবুব কবির মিলন। তার মতে, অপরাধের যথাযথ বিচার না হওয়া এবং অপরাধীদের শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক আচরণের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, শুধু নামাজ-রোজার মতো ধর্মীয় আচার পালন করলেই সৎকর্মশীল হওয়ার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং সৎকর্ম, ন্যায়বিচার ও নৈতিক আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন- নৈতিকতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

গ্রেপ্তার হলেই কি বাতিল হবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা? যা জানাল দূতাবাস
কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে দেশটির ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পোস্টে দূতাবাস জানায়, কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলে তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া তাকে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। দূতাবাসের এ বার্তায় ভিসাধারীদের গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য অভিবাসনগত পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকলেই যে দেশটিতে প্রবেশ বা অবস্থানের সুযোগ সব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত, তা নয়। ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ভিসার বৈধতা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের যোগ্যতা প্রভাবিত হতে পারে। এর আগে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছিল ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের ভিসায় পর্যটন, অবকাশযাপন, কেনাকাটা, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক এবং সভা ও সম্মেলনে অংশ নেয়ার মতো কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। বি১/বি২ ভিসা মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফর ও পর্যটনসহ নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এ ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাধারণ চাকরি বা অনুমোদনহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া যায় না। ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভিসার শর্ত অনুযায়ী এর ব্যবহার নির্ধারিত হয়।https://www.facebook.com/bangladesh.usembassy/


