কালবেলা · সাধারণ
গোলাপি রঙে মুগ্ধতা বিলাচ্ছে বুনোফুল বনওকড়া
২০/১০/২০২৬

ঝোপঝাড়, রাস্তার ধার কিংবা পতিত জমিতে অযত্নে বেড়ে ওঠে বনওকড়া। আগাছা হিসেবে পরিচিত এই বুনো গাছেই ফুটেছে হালকা গোলাপি রঙের ছোট ছোট চোখজুড়ানো ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে অন্যরকম মনভোলানো নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।
পথচারী ও স্থানীয়দের চোখ আটকে যাচ্ছে এ ফুলের মায়াবী রূপে। ফুলপ্রেমী ও প্রকৃত প্রেমিকদের কাছে হয়ে উঠেছে মুগ্ধতার অনুষঙ্গ। এ ফুলের চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে সবুজ প্রকৃতিও যেন সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে
বনওকড়া মূলত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ইউরেনা লোবাটা (Urena lobata)। এটি মালভেসি বা জবা পরিবারের বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে এটি জংলি ঘাগরা, আটলেরা, বা বেলাজ গোটা নামেও পরিচিত। ইংরেজিতে এটি সিজারউইড, বার ম্যালো ও কঙ্গো জুট নামে পরিচিত।
গাছটির পাতা বেশ প্রশস্ত এবং কিনারা খাঁজকাটা। পাতার ফাঁকে ফোটে পাঁচ পাপড়ির হালকা গোলাপি রঙের ছোট ছোট ফুল। দেখতে অনেকটা জবা ফুলের মতো। ফুলের মাঝখানে গাঢ় গোলাপি রঙের পরাগদণ্ড থাকায় এর সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বনওকড়া সাধারণত উন্মুক্ত স্থান, রাস্তার পাশ, জলাশয়ের পাড়, ঝোপঝাড় ও পতিত জমিতে জন্মে। এই উদ্ভিদটি প্রতিকূল পরিবেশেও বেড়ে ওঠা সক্ষমতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সহজেই বিস্তার লাভ করে। এর ফলের গায়ে থাকা হুকের মতো অংশ বীজ বিস্তারে সহায়তা করে। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে উদ্ভিদটি।
বনওকড়া ফুল দেখতে সুন্দর হলেও অনেকের কাছে গাছটি পরিচিত কেবল আগাছা হিসেবে। তবে এ গাছে ফুল ফুটলে এর সৌন্দর্য সহজেই নজর কাড়ে। বিশেষ করে সবুজ ঝোপের মধ্যে হালকা গোলাপি ফুলের উপস্থিতি প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে কিংবা ঝোপঝাড়ে গাছটি প্রায়ই চোখে পড়ে। এ গাছে ফুল ফুটলে দেখতে বেশ ভালো লাগে। প্রকৃতির মধ্যে ছোট ছোট ফুলও যে এত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হতে পারে, তা এ ফুল দেখলেই বোঝা যায়।’
স্থানীয় বিদ্যাপীঠ সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর আলম সোহাগ বলেন, ‘সড়কে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই চোখে পড়ে বনওকড়া ফুল। গাছটি সাধারণ আগাছা হলেও এর ফুলগুলো গোলাপি জবা ফুলের মতো বেশ সুন্দর। আসা-যাওয়ার পথে ফুলগুলোর এমন সৌন্দর্য অভিভূত করে।’
স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপু খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রকৃতিতে জন্মানো প্রতিটি উদ্ভিদেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বনওকড়াকে অনেকে আগাছা মনে করলেও এর ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায়। এ উদ্ভিদটির রয়েছে নানা ঔষধি গুণও। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য এই উদ্ভিদটির মতো আরও অনেক দেশীয় উদ্ভিদ আমাদের প্রকৃতি থেকে আমাদেরই অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্থানীয় উদ্ভিদ সম্পর্কে জানানো হলে তারা প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও আগ্রহী হবে। তারা উপলব্ধি করবে প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু সাজানো বাগানে নয়, ছড়িয়ে আছে পথের ধারের অবহেলিত ঝোপঝাড়ে জন্মানো নানা উদ্ভিদেও।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗