আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসান্তে মোটা অঙ্কের বেতন যখন ঘরে ঢুকত, পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন নয়নের মণি। কিন্তু হঠাৎ চাকরি চলে যেতেই সম্পূর্ণ বদলে গেল চেনা ছবিটা। যে মা-বাবা একসময় তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন, রোজগার বন্ধ হতেই তাঁদের মুখ থেকেই উড়ে এল ‘অপয়া’ বা ‘বসে বসে খাওয়ার’ মতো অপমানজনক কটূক্তি। ২২ বছর বয়সি এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরতেই তা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
রেডিটে নিজের মনের ক্ষোভ ও একাকিত্ব ভাগ করে নিয়ে ওই তরুণ জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি প্রতি মাসে ৯৫ হাজার টাকার একটি প্রযুক্তি সংস্থার চাকরি হারিয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতেই এমন আকস্মিক ধাক্কায় যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, তখনই সবচেয়ে কাছের মানুষদের কাছ থেকে পেলেন চরম আঘাত। তিনি লেখেন, চাকরি থাকা পর্যন্ত পরিবারের প্রতিটি প্রয়োজন মেটানো সত্ত্বেও আজ কাজ হারাতেই মা-বাবার চোখে তিনি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিন পরিবার থেকে শুনতে হচ্ছে নানা খোঁটা, এমনকি তাঁকে অলস ও অপদার্থ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হতাশায় ভেঙে পড়া ওই তরুণের আক্ষেপ, পরিবারের তথাকথিত ‘নিঃশর্ত ভালোবাসা’ যে আসলে আর্থিক উপার্জনের অঙ্কের ওপর নির্ভরশীল, তা তিনি এই প্রথম উপলব্ধি করলেন। তাঁর কথায়, “সবাই আপনাকে ভালোবাসবে, কিন্তু সেটা কেবল ততদিনই, যতদিন আপনার উপযোগিতা থাকবে। কেউ আসলে কারও নিজের নয়।”
রেডিটে এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই সহানুভূতি ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, ভারতীয় সমাজে বহু পরিবারের কাছে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা এখনও বেশি অগ্রাধিকার পায়। বহু তরুণ-তরুণী নিজেদের জীবনের একই রকম তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ওই যুবককে ভেঙে না পড়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস ও পরামর্শ জুগিয়েছেন।
