জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।।
২০ অক্টোবর, সন্ধ্যায় লামা আরামবাগ হোটেলের ২য় কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মদক্ষ সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উক্ত মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ ও জোর নিন্দা জানিয়ে ২১ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় ভুক্তভোগী আলমগীরের পরিবার আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত অত্যন্ত স্বচ্ছতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তাঁর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ভূ-সম্পত্তি জরিপ ও পরিমাপের ক্ষেত্রে তিনি সর্বদা আইন ও সঠিক নিয়ম বজায় রেখে কাজ করেন। অপরদিকে সংক্ষুব্ধ চিত্তরঞ্জন বড়ুয়া গং কোনো প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে এবং ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্রদ্বারা প্রভাবিত হয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের ঈর্ষণীয় কর্মদক্ষতা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা ২০ অক্টোবর করা সংবাদ সম্মেলনে যে সকল তথ্য পরিবেশন করিয়েছে, তার কোনো দাপ্তরিক বা আইনি ভিত্তি নেই। পেশাগত কাজে ব্যর্থ হয়ে কিংবা বেআইনি সুবিধা না পেয়ে একটি মহল এভাবে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে একজন সরকারি/পেশাদার কর্মচারীর মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রকৃত সত্য হচ্ছে; গত ২৪ সেপ্টেম্বর/২৬ তারিখে লামা উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে একটি সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ‘সরেজমিন তদন্তে ও স্থানীয় ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় বিবাদীপক্ষ মূলত বিগত ১৫-১৬ বছর যাবত নালিশী জমিতে বিভিন্ন গাছ লাগিয়ে বাগান সৃজন ও একাধিক বসত ঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ নালিশী জমির মালিকানা দাবী করেন এবং একাধিক বৈঠক হলেও নালিশী জমির আশেপাশের জমি ছেড়ে দিলেও নালিশী অংশটিতে বসতভিটা হওয়ায় বিবাদীপক্ষ দখল ছাড়ে নি। এতে বাদী ক্ষুদ্ধ হয়ে বিবাদীপক্ষ কর্তৃক জোরপূর্বক নালিশী জমি জবর দখল করেছেন দাবী করেন এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না হওয়ায় বাদী কর্তৃক অত্র মামলা দায়ের করেন। কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাদীপক্ষ রেজিঃ দানপত্র দলিল নং ০৮/২০০১ মূলে নালিশী জমির মালিকানা দাবী করেছেন। তবে বাদীপক্ষের মামলার আর্জিতে নালিশী জমি যে চৌহদ্দিমূলে দাবী করেছেন সে চৌহদ্দিটি দানপত্র দলিলে উল্লেখ নাই এবং দানপত্র দলিলের গর্ভে কোন চৌহদ্দির উল্লেখ পাওয়া যায় নি। এছাড়াও হোল্ডিং নং ১৭ (গ্রোভ) এর মিস কেস নং ৪৩২/স/০৭ এর নোর্টিং এ কোন চৌহদ্দি উল্লেখ করেন নি। অর্থাৎ দানপত্র মূলে দাবীকৃত অংশটির। জমাবন্দিতেও চৌহদ্দি উল্লেখ নাই। এতে মামলার আর্জি বর্ণিত নালিশী জমিসহ হোন্ডিং নং ১৭ এর সঠিক অবস্থান সরেজমিনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নি। অপরদিকে বিবাদীপক্ষের দাবীকৃত হোল্ডিং আর/৮ এর পুঃ দিকের চৌহদ্দি বাদে বাকি ০৩ দিকের চৌহদ্দি ও শ্রেণির মিল পাওয়া যায়। উক্ত জমিতে বিবাদীপক্ষের একাধিক বসতঘর ও দীর্ঘকাল যাবত বসবাস রয়েছে। এছাড়াও আরও জানা যায় বিবাদীপক্ষের দাবীকৃত হোল্ডিং নং আর/৮ এর কিছু জমি অন্যত্র বিক্রয় করেছেন এবং ক্রেতাগণের বসতবাড়ীসহ বহুদিন যাবত শান্তিপূর্ণ দখল রয়েছে। এতে বাদীপক্ষ কর্তৃক মামলার আর্জিতে বর্ণিত দাবী অনুযায়ী ২ বছর পূর্বে নালিশী জমি বিবাদীপক্ষের দ্বারা জবর দখল হয়েছে মর্মে সত্যতা পাওয়া যায় নি। এছাড়াও মামলার আর্জি বর্ণিত চৌহদ্দির সাথে জমাবন্দি ও দলিলের চৌহদ্দির উল্লেখ ও মিল না থাকায় নালিশী ভূমি নিয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারার অধীনে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয় নি। তবে নালিশী জমি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকায় শান্তি শৃঙ্খলা অবনতির আশংকা রয়েছে।’ মূলত: এই প্রতিবেদনটি চিত্তরঞ্জন বড়ুয়া গংয়ের মনপুত না হওয়ায় মিথ্যা অপপ্রচার- সংবাদ সম্মেলন করে। অপরদিকে আলমগীরের পরিবার ও স্থানীয়রা
স্পষ্ট ভাষায় জানান দেন যে:চিত্তরঞ্জন গং কর্তৃক করা সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। সত্যকে আড়াল করে সমাজ ও প্রশাসনের চোখে একজন সৎ কর্মচারীকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা (ডিজিটাল নিরাপত্তা/মানহানি মামলা) গ্রহণ করতে বাধ্য হব। তাই সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে উক্ত মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেই সাথে এই মিথ্যা অপপ্রচারের পেছনের চক্রান্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানান।

