চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৫৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮ জন, মারা গেছেন আরও দুজন। এতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ, সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে ৮৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬৫ জন।
এখন পর্যন্ত মহানগরে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৬৭ জন। আর উপজেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩৮৭। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে আসা ৬০০ রোগীও চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন।
উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে, ৭২৬ জন। এরপর কর্ণফুলীতে ২৯৮, বাঁশখালীতে ১৮৩, রাঙ্গুনিয়ায় ১৬৭, সাতকানিয়ায় ১৩৬, পটিয়ায় ১১৮, আনোয়ারায় ১২৬, রাউজানে ১১১, মিরসরাইয়ে ৯৬, হাটহাজারীতে ৯০, চন্দনাইশে ৮৯, বোয়ালখালীতে ৮৪, লোহাগাড়ায় ৭২, ফটিকছড়িতে ৫৬ এবং সন্দ্বীপে ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আগস্টে আক্রান্ত হন ১ হাজার ২০২ জন। আর অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ জনে।
এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৩৬ জন। অর্থাৎ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অক্টোবরেও আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়ানোয় মাসের অন্য সময়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২১ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৪৫ জন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৩৫ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৩২ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৩ জন এবং সিএমএইচ চট্টগ্রামে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২৬ জনের মধ্যে ১২ জন উপজেলার বাসিন্দা, ১১ জন মহানগর এলাকার এবং তিনজন অন্যান্য জেলার বাসিন্দা। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৯ জন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি মশা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আইএমই/এএইচ
