শাহজালাল বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকা। লাগেজ সংগ্রহের অপেক্ষায় যাত্রীরা। তবে এবার সে অপেক্ষার চিত্রটা ভিন্ন। বেল্টের সামনে বড় পর্দায় চোখ সবার। কেউ দেখছেন উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানোর কাজ, কারও নজর আবার কীভাবে লাগেজ যাচ্ছে বেল্টে—সেদিকে।
বিমানবন্দরে ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থায় উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা। বলছেন, লাগেজের অবস্থান ও পরিবহন সরাসরি দেখতে পারা বড় অগ্রগতি। এতে লাগেজ পেতে দেরি হলেও কোনো সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে সহজেই।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে যাত্রীরা বলেন, ‘আগে আমরা ঠিকমতো জানতাম না, আমাদের লাগেজ কোথায় আছে। বর্তমানে নতুন যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে, তার ফলে কার লাগেজ কোথায়, কখন এবং কীভাবে আসছে, তা আমরা সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেখতে পারছি। আগে লাগেজ কাটার একটি সমস্যা ছিল। এখন এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সম্ভবত এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। আমাদের দেশে এই প্রথম এমন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অন্যান্য দেশে ভ্রমণের সময় আমরা দেখতে পাই, আমাদের লাগেজগুলো জোরে নাকি আস্তে নামানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’
শুধু লাগেজের গতিবিধি দেখতে পাওয়া নয়, সংগ্রহের সময় কমে এসেছে বলেও জানান তারা। ১৫ থেকে ৪০ মিনিটে লাগেজ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। এতে কমেছে দীর্ঘক্ষণ বেল্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি। নতুন ব্যবস্থাপনায় ট্রলির সংকটও কমেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা আরও জানান, ‘আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে আমার লাগেজ পেয়ে গেছি। এই ব্যবস্থা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। কারণ, আমরা তো দুর্ভাগা জাতি। আমাদের সবকিছু দেখে-শুনে নিতে হয়। অর্থাৎ, কাউকে বিশ্বাস করে কোনো কিছু নেওয়া যায় না।’
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন এই উদ্যোগে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। পরিবহনের নানা ধাপ নিয়ে পাওয়া যাবে স্পষ্ট ধারণা। পাশাপাশি হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও বাড়বে স্বচ্ছতা।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যাত্রীরা এখানে সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন, তাদের লাগেজ কীভাবে হ্যান্ডেল করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যারা লাগেজ হ্যান্ডেল করছেন, তারাও জানেন যে যাত্রীরা তাদের কার্যক্রম দেখছেন। তাই দুই পক্ষের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মনিটরগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।’
লাগেজ সংগ্রহের অপেক্ষা, ট্রলি সংকট বা লাগেজের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা—বিমানবন্দরের এসব পরিচিত ভোগান্তি কমাতে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
