বাইশ গজে শেবাগ পদবির উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ব্যাটের তাণ্ডব— কথাটি যেন আরও একবার নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন আর্যবীর শেবাগ। বাবা ভারতের সাবেক তারকা বীরেন্দর শেবাগের মতোই ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাট হাতে চড়াও হলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে খেললেন ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের এক চোখ ধাঁধানো ইনিংস।
শুক্রবার এসিএ স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ভিনু মানকড় ট্রফিতে ৫০ ওভারের ম্যাচে চণ্ডীগড় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ঝড় তোলেন আর্যবীর। দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৬ উইকেটে ২৮৯ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দেন ১৮ বছর বয়সী এই ডানহাতি।
বাবার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ছাঁচেই গড়া আর্যবীরের এই উত্তাল ইনিংস। তার ১৭৩ রানের মধ্যে ১২৪ রানই এসেছে কেবল বাউন্ডারি থেকে। হাত খুলে তিনি মারেন ১৯টি চার ও আটটি ছক্কা। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ২৭ রান দূরে থাকতে দিল্লির ইনিংসের ৪৬তম ওভারে আউট হন তিনি।
শুরু থেকেই চণ্ডীগড়ের বোলারদের কোণঠাসা করে রাখেন আর্যবীর। উদ্বোধনী জুটিতে অপর ওপেনার অর্ণব বুগগার (৩৯ বলে ৪৭) সঙ্গে মাত্র ১৩.২ ওভারে ৯৮ রান যোগ করেন তিনি। এরপর অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও একপ্রান্তে তার রান তোলার গতি কমেনি।
চলতি টুর্নামেন্টে এর আগের তিন ম্যাচে দারুণ সূচনা করেও বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি আর্যবীর। যথাক্রমে ৫৪, ৪৬ ও ৩২ রানে আউট হন তিনি। এর আগে গত মাসে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন আর্যবীর। সেখানে তিন ইনিংসে ১০৩.৮১ স্ট্রাইক রেটে ১০৯ রান করলেও কোনো বড় স্কোরের দেখা পাননি। অবশেষে ভিনু মানকড় ট্রফিতে এসে সেই আক্ষেপ মেটালেন শেবাগের ছেলে।
আর্যবীরের এই টর্নেডো ইনিংসের পরও বাকিদের ব্যর্থতায় তিনশর ঘর ছুঁতে পারেনি দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পুঁজি। বুগগা ছাড়া আর মাত্র দুই ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন। অভিরাজ গগন সিং ১৮ ও শান্তনু যাদব অপরাজিত ২৭ রান করেন।
গুজরাটের বিপক্ষে ৩৩৯ রান তাড়া করে জিতে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছিল দিল্লি। কিন্তু এরপর হিমাচল প্রদেশ ও কর্ণাটকের কাছে হার এবং ঝাড়খণ্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় ব্যাকফুটে চলে গেছে তারা।
সেই চাপ আরও বেড়েছে এবার। আর্যবীরের বিধ্বংসী শতক বিফলে গেছে। ৫১ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে দিল্লিকে হারিয়েছে চণ্ডীগড়। তাদের হয়ে ওপেনার রুপেশ যাদব সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ১২৫ বলে ১৬৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ২৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
