চল্লিশের পরের সময়টি মানুষের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ সময় জীবনে পরিপক্বতা, পেশাগত দায়িত্ব, পারিবারিক অঙ্গীকার, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত অর্জন বাড়ে।
একই সঙ্গে শরীর, মন এবং সামাজিক জীবনে নানা পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব বাড়তে পারে, সন্তানদের প্রতি অধিক মনোযোগ প্রয়োজন হতে পারে, বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নিতে হয়, সম্পর্কের ধরন বদলায়, আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকে, পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ে।
এই পর্যায়ে আমরা সাধারণত শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি বেশি মনোযোগী হই-রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরল কিংবা অন্যান্য শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি-কিন্তু মানসিক সুস্থতাকে অনেক সময় একই গুরুত্ব দিই না।
অথচ মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা কীভাবে কাজ করি, সিদ্ধান্ত নিই, সম্পর্ক বজায় রাখি, সমাজে অংশগ্রহণ করি এবং দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি-এসব কিছুর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই ধারণা বাংলাদেশের সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন, চিকিৎসাসেবা এবং অসুস্থতা, অক্ষমতা ও বার্ধক্যে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে; একইভাবে ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মানসিক সুস্থতাকে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে নয়, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
তাত্ত্বিকভাবে বায়োসাইকোসোশ্যাল মডেল আমাদের এই বিষয়টি বুঝতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এই মডেল অনুযায়ী মধ্যবয়সে মানসিক সুস্থতা গড়ে ওঠে জৈবিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক প্রভাবের মাধ্যমে। বয়সজনিত পরিবর্তন, হরমোনের পরিবর্তন, শারীরিক অসুস্থতা ও ঘুমের সমস্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানসিক চাপ, আবেগ এবং পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মসংস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক সহায়তা ও কমিউনিটিতে অংশগ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের ক্ষেত্রে মধ্যবয়সে মেনোপজে উত্তরণের সময়কাল একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হতে পারে। এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, মানসিক অস্থিরতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং স্মৃতির পরিবর্তন যুক্ত হতে পারে। অনেক নারী এ সময় ভুলে যাওয়া, ক্লান্তি বা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার মতো অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যাকে অনেক সময় আনুষ্ঠানিকভাবে "ব্রেইন ফগ" বলা হয়। এসব পরিবর্তন উদ্বেগ, সম্পর্ক, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং কর্মজীবনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এগুলোকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক নয়, আবার অবহেলা করাও ঠিক নয়। সব নারী একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান না এবং মধ্যবয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসুস্থতা হিসেবে দেখাও উচিত নয়।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা, পরিবর্তনগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনমতো ও সময়মতো সহায়তা নেওয়া। মানসিক সুস্থতা শুধু বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা ডিমেনশিয়া না থাকার নাম নয়; বরং অর্থবহ সম্পর্ক বজায় রাখা, সিদ্ধান্ত নিতে পারা, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, জীবনে উদ্দেশ্য অনুভব করা, সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পরিবার ও সমাজে অবদান রাখার সক্ষমতাও এর অংশ। বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮-তেও এই বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়।
এই আইন ১৯১২ সালের ঔপনিবেশিক আমলের Lunacy Act-এর পরিবর্তে চিকিৎসা, মর্যাদা, পুনর্বাসন, সম্পত্তির অধিকার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামগ্রিক কল্যাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এ কারণে মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা হিসেবে দেখলে যথেষ্ট হয় না; এটি মর্যাদা, অধিকার, অন্তর্ভুক্তি এবং জীবনমানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক সংযোগ। মানুষ একা একা বয়স বাড়ায় না। পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং সামাজিক অংশগ্রহণ আমাদের আবেগগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন ধরনের সংগঠনে অংশগ্রহণ সামাজিক যোগাযোগের গণ্ডি আরও বিস্তৃত হয়। এ ধরনের সংগঠন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, অংশগ্রহণ, বন্ধুত্ব, সেবা, পারস্পরিক সহায়তা এবং আপনত্ববোধের সুযোগ তৈরি করে, যা পরবর্তী জীবনে মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হতে পারে। পরিবারেও একইভাবে সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি যদি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন, বেশি ভুলে যান, উদ্বিগ্ন, খিটখিটে বা আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়েন, তবে সমালোচনা অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার আগেও প্রয়োজন হয় মনোযোগ দিয়ে শোনা, আশ্বস্ত করা, সম্মান দেখানো এবং বোঝার চেষ্টা করা। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো সমাজে যে কলঙ্ক ও সংকোচ রয়েছে, তা অনেক মানুষকে নিজের কষ্টের কথা খোলামেলা বলতে বাধা দেয়।
আমাদের আইনি কাঠামো মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবিক আচরণ ও যথাযথ সেবার অধিকার রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য আইন চিকিৎসা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়, পরিত্যাগ বা অবহেলার ওপর নয়। তাই মানসিকভাবে সুস্থ সমাজ বলতে এমন একটি সমাজকে বোঝায়, যেখানে বয়স, আবেগগত অসুবিধা বা বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনের কারণে কাউকে বিচ্ছিন্ন করা হয় না; বরং পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে তাকে সহায়তা করা হয়।
ক্লিনিক্যাল সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে আমার একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি যে পরিবার, সামাজিক সহায়তা এবং কমিউনিটির পরিবেশ মানুষের মানসিক সুস্থতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাই সহায়ক পরিবেশ, পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা, মানবিক সহনশীলতা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
৪০ বছর বয়সের পর মানুষের জীবনে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই সময়ে কেউ কর্মজীবনের সাফল্য ও আত্মতৃপ্তি অনুভব করেন, আবার কেউ মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা, স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার সম্মুখীন হন। তবে ৪০ বছর বয়স পার হলেই মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। এ বয়সে অনেক মানুষ আরও পরিণত, আত্মবিশ্বাসী, অভিজ্ঞ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ হয়ে ওঠেন।
৪০ বছর বয়সের পর মানসিক স্বাস্থ্যের সাধারণ সমস্যা
ক. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ এ বয়সে পরিবার, কর্মক্ষেত্র, আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং বয়স্ক মা-বাবার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। একজন কর্মজীবী নারী পরিবার, চাকরি ও সামাজিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় পান না। ফলে তার উদ্বেগ, ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে।
ক্রমাগত পারিবারিক দায়িত্ব, পেশাগত দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন নারী তার নিজের প্রতি একবারেই দৃষ্টি দিতে পারেন না, নিজের জন্যে একটু সময়, নিজের ভালোলাগার, নিজেকে উপলব্ধি করার কোনো সময় তার নেই।
সন্তানদের প্রত্যাশা বা সাংসারিক সবকিছু দায়িত্ব পালন করবেন, বাবা অর্থ উপার্জনকারী হিসেবে বাইরের দায়িত্ব পালন করবেন, স্ত্রী হিসেবে স্বামীর সেবাযত্ন, বৃদ্ধ বাবা-মা, শশুর-শাশুড়ী, আত্মীয়-স্বজন সবকিছু সামলে নিবেন। এর ওপরে পেশাগত দায়িত্বতো রয়েছেই। এই যে বৈষম্যমূলক জেন্ডার ভূমিকার প্রতিফলন, বাংলাদেশ সমাজব্যবস্থায় শক্তিশালী রয়েছে এর ফলে নারীদের বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা এবং সামাজিক চাপ, আত্মহত্যার প্রবণতা পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে বর্তমানে ডিভোর্স এবং বিচ্ছেদ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে একজন ডিভোর্স প্রাপ্ত নারী এবং যদি সন্তান থাকে তাহলে শুরু হয়ে যায় আরেক জীবনব্যাপী সমস্যা।
আবার গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে বেশীরভাগ নারীরা তার অতীত জীবনে নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশি, পরিচিত অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো না কোনোভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এইসব নারীদের মধ্যে এক ধরণের Post-traumatic Stress Disorder হয়ে থাকে, ফলে তার মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত, যৌন জীবনে ব্যাঘাত এবং আচরনে ও আবেগে ব্যাঘাত/বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে।
পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি অবহেলিত এবং উপেক্ষিত। আবার একজন নারী যখন সন্তান ধারণ, জন্মদান, লালন/পালনের মত কঠিন দায়িত্ব পালন করেন তখন অনেক সময় সন্তান জন্মদানের পরবর্তীতে তার মধ্যে Post-partum Depression হতে পারে। সামাজিক ব্যবস্থায় কঠিন বাস্তবতায় আমলে একজন নারীর সামাজিক মর্যাদা, শারিরীক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কঠিন চ্যালেঞ্জ। যেখানে প্রজননগত স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশে অধিকাংশ নারী পাচ্ছে না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় তো নিছক একটি কল্পণা প্রসূত!
খ. বিষণ্ণতা: জীবনের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, প্রিয়জনকে হারানো, একাকিত্ব, সম্পর্কের অবনতি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষণ: দীর্ঘ সময় মন খারাপ থাকা, আগের পছন্দের কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া, ঘুম ও ক্ষুধার পরিবর্তন, নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসুবিধা।
গ. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের পরিবর্তন: ৪০ বছরের পর কেউ কেউ নতুন কিছু শিখতে বা তথ্য মনে করতে আগের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শেখার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার সম্ভাব্য কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্যান্য চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। স্মৃতিশক্তির সমস্যা ক্রমাগত বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ঘ. পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন সন্তানদের বড় হয়ে স্বাধীন জীবন শুরু করা, দাম্পত্য সম্পর্কের পরিবর্তন, কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক ভূমিকার পরিবর্তন মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ঙ. আত্মপরিচয় ও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন:
অনেকেই এ সময় নিজেকে প্রশ্ন করেন: আমি জীবনে কী অর্জন করেছি? আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী? ভবিষ্যতে আমি কী করতে চাই? সমাজ ও পরিবারের জন্য আরও কী করতে পারি? এই প্রশ্নগুলো সব সময় মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়। এগুলো আত্মবিশ্লেষণ, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
৪০ বছর বয়সের পর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮টি উপায়
১. নিয়মিত শরীরচর্চা: স্বাস্থ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা বা অন্য ব্যায়াম করুন।
২. পর্যাপ্ত ঘুম: অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম উপকারী।
৩. নতুন কিছু শেখা: বই পড়া, লেখা, ভাষা শেখা, পড়াশোনা বা নতুন দক্ষতা চর্চা করুন।
৪. সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা: পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ রাখুন।
৫. নিজের জন্য সময় রাখা প্রতিদিন কিছু সময় বিশ্রাম, প্রার্থনা বা ধ্যান, শখ কিংবা আনন্দদায়ক কাজে ব্যয় করুন।
৬. দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা: সব দায়িত্ব একা নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনে অন্যদের সহযোগিতা নিন।
৭. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন এবং নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন।
৮. প্রয়োজনে পেশাগত সহায়তা নেওয়া: মানসিক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সহায়তা নিন। পেশাগত সমাজকর্মী, ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারগণ, কমিউনিটি পর্যায়ে মেন্টাল হেলথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
মন খারাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, কাজে আগ্রহ হারানো বা মনোযোগের অসুবিধা প্রায় দুই সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হলে, অথবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে পেশাগত মূল্যায়ন নেওয়া উচিত। স্মৃতিশক্তির সমস্যা নতুন করে দেখা দিলে বা ক্রমাগত বাড়লে সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আচরণে ও চিন্তায় অসংগতি, আবেগের অসংগতি, কর্ম, পেশা, অ্যাকাডেমিক কাজ ব্যাহত হওয়া এবং ক্রমান্বয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, সাধারণ মানুষের আচরণের থেকে ভিন্নতা লক্ষণীয় হলে।
প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় জুড়েই মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতা রক্ষার জন্য বাস্তব কিছু উপায় রয়েছে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তা, অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক এবং শারীরিক অসুস্থতার যথাযথ ব্যবস্থাপনা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বই পড়া, নতুন কিছু শেখা, মতবিনিময়, গল্প বলা, বিভিন্ন খেলা, সেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং কমিউনিটি জীবনে সক্রিয় থাকা আমাদের মন ও সামাজিক পরিচয়কে সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে কখন মানসিক সুস্থতার জন্য পেশাগত সহায়তা প্রয়োজন, তা বুঝতেও হবে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ঘুমের গুরুতর সমস্যা, সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, আচরণে বড় পরিবর্তন, কিংবা স্মৃতি ও মনোযোগের এমন সমস্যা যা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে-এসব বিষয় উপেক্ষা করা উচিত নয়। সব স্মৃতির সমস্যা ডিমেনশিয়ার লক্ষণ নয়; আবার কিছু আবেগগত সমস্যাও মনোযোগ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য কেবল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবার, দায়িত্বশীল কমিউনিটি, সহজপ্রাপ্য সেবা এবং এমন একটি সামাজিক পরিবেশ, যেখানে মর্যাদা ও অংশগ্রহণকে সম্মান করা হয়।
চল্লিশের পরের জীবনকে কেবল অবক্ষয়ের সময় হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং এটি হতে পারে আরও বেশি পরিপক্বতা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং অর্থবহ অবদানের সময়। আমরা যেমন শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিই, তেমনি সচেতনভাবে মানসিক সুস্থতারও যত্ন নিতে হবে। আমাদের শারীরিকভাবে সক্রিয়, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সচল, সামাজিকভাবে সংযুক্ত এবং আবেগগতভাবে সচেতন থাকতে হবে। পরিবর্তনকে অযথা ভয় না পেয়ে বুঝতে হবে,
৪০ বছর বয়সের পর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার ৮টি উপায়
১. নিয়মিত শরীরচর্চা: স্বাস্থ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা বা অন্য ব্যায়াম করুন।
২. পর্যাপ্ত ঘুম: অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম উপকারী।
৩. নতুন কিছু শেখা: বই পড়া, লেখা, ভাষা শেখা, পড়াশোনা বা নতুন দক্ষতা চর্চা করুন।
৪. সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা: পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ রাখুন।
৫. নিজের জন্য সময় রাখা প্রতিদিন কিছু সময় বিশ্রাম, প্রার্থনা বা ধ্যান, শখ কিংবা আনন্দদায়ক কাজে ব্যয় করুন।
৬. দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা: সব দায়িত্ব একা নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনে অন্যদের সহযোগিতা নিন।
৭. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন এবং নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন।
৮. প্রয়োজনে পেশাগত সহায়তা নেওয়া: মানসিক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সহায়তা নিন। পেশাগত সমাজকর্মী, ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারগণ, কমিউনিটি পর্যায়ে মেন্টাল হেলথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
মন খারাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, কাজে আগ্রহ হারানো বা মনোযোগের অসুবিধা প্রায় দুই সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হলে, অথবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে পেশাগত মূল্যায়ন নেওয়া উচিত। স্মৃতিশক্তির সমস্যা নতুন করে দেখা দিলে বা ক্রমাগত বাড়লে সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আচরণে ও চিন্তায় অসংগতি, আবেগের অসংগতি, কর্ম, পেশা, অ্যাকাডেমিক কাজ ব্যাহত হওয়া এবং ক্রমান্বয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, সাধারণ মানুষের আচরণের থেকে ভিন্নতা লক্ষণীয় হলে।
প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় জুড়েই মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতা রক্ষার জন্য বাস্তব কিছু উপায় রয়েছে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তা, অর্থবহ সামাজিক সম্পর্ক এবং শারীরিক অসুস্থতার যথাযথ ব্যবস্থাপনা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বই পড়া, নতুন কিছু শেখা, মতবিনিময়, গল্প বলা, বিভিন্ন খেলা, সেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং কমিউনিটি জীবনে সক্রিয় থাকা আমাদের মন ও সামাজিক পরিচয়কে সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে কখন মানসিক সুস্থতার জন্য পেশাগত সহায়তা প্রয়োজন, তা বুঝতেও হবে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট, উদ্বেগ, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ঘুমের গুরুতর সমস্যা, সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, আচরণে বড় পরিবর্তন, কিংবা স্মৃতি ও মনোযোগের এমন সমস্যা যা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে-এসব বিষয় উপেক্ষা করা উচিত নয়। সব স্মৃতির সমস্যা ডিমেনশিয়ার লক্ষণ নয়; আবার কিছু আবেগগত সমস্যাও মনোযোগ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য কেবল ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সহায়ক পরিবার, দায়িত্বশীল কমিউনিটি, সহজপ্রাপ্য সেবা এবং এমন একটি সামাজিক পরিবেশ, যেখানে মর্যাদা ও অংশগ্রহণকে সম্মান করা হয়।
চল্লিশের পরের জীবনকে কেবল অবক্ষয়ের সময় হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং এটি হতে পারে আরও বেশি পরিপক্বতা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং অর্থবহ অবদানের সময়। আমরা যেমন শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিই, তেমনি সচেতনভাবে মানসিক সুস্থতারও যত্ন নিতে হবে। আমাদের শারীরিকভাবে সক্রিয়, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সচল, সামাজিকভাবে সংযুক্ত এবং আবেগগতভাবে সচেতন থাকতে হবে। পরিবর্তনকে অযথা ভয় না পেয়ে বুঝতে হবে, প্রয়োজন হলে সহায়তা নিতে হবে এবং এমন পরিবার ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মানুষ কলঙ্ক বা সংকোচ ছাড়াই নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের প্রয়োজন শুধু চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন বোঝাপড়া, সঙ্গ, সম্মান, জীবনের উদ্দেশ্য এবং আপন হওয়ার অনুভূতি। তাই একটি সুস্থ সমাজ শুধু সেই সমাজ নয় যেখানে মানুষ দীর্ঘজীবী হয়; বরং সেই সমাজ, যেখানে মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত, মূল্যবান, সম্মানিত এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শহরকেন্দ্রিক সচেতনতা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে। ৫৬টি সরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা সেবা রয়েছে। এছাড়া পাবনায় ১টি মানসিক হাসপাতাল এবং ঢাকায় ১টি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউট রয়েছে।
সমগ্র বাংলাদেশে মাত্র ৪০০ জনের মতো সাইক্রিয়াট্রিক রয়েছেন। ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্টের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য এবং মাত্র ৩টি ক্লিনিক্যাল সোস্যাল ওয়ার্কারের পদ রয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৮% মানুষ কোন না কোনভাবে মানসিক রোগী এবং দিনে দিনে মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল সংখ্যক মানসিক রোগীর ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থা অপ্রতুল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ৯০ শতাংশ মানুষই এ মানসিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ৫/৬ লক্ষ মানুষের জন্য ১ জন চিকিৎসক রয়েছে। আশার কথা বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থের কথা উপলব্ধি করছেন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করার জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
বর্তমানে শিশু কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আবেগ, মনোভাব এবং আচারণগত বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নির্মাতাদের প্রতি আমাদের সবিশেষ গুরুত্ব ও দৃষ্টি দেয়ার এখনই সময়। পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, কমিউনিটি পর্যায়ে আনন্দঘন ও গঠনমূলক যথোপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ভিত্তিতে তাদের মনোজগতের পরিবর্তন আনতে হবে, নেশার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলায় আসক্তি বৃদ্ধি করতে হবে, মোবাইল, টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তির পরিবর্তে শরীরচর্চা, মিউজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে, অসহনশীলতা ও স্বার্থপরতার বিপরীতে সহনশীলতা এবং সহমর্মিতা, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হবে। তাই এক্ষেত্রে স্কুল-কলেজ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন, প্রতিটি এলাকায়/মহল্লায় কমিউনিটি ভিত্তিক এসব কর্মসূচী বাড়াতে হবে।
ইতোমধ্যেই সরকার আইডিয়া ফেষ্ট, নতুনকুড়ি স্পোর্টস, বিজ্ঞানমেলা, স্টার্টআপ দক্ষতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের মতো কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন এবং তার সুফল দৃশ্যমান। বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে আবার তার হৃত গৌরব পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শিশু, কিশোর, নারী, প্রবীণ অর্থাৎ সকল স্তরের জনগোষ্ঠীর মানসিক চাহিদার প্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে দেশের মূল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যেখানে মানসিক, জৈবিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিকসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা বিদ্যমান থাকবে। মনে রাখতে হবে স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়, একজন মানুষের মানসিক, জৈবিক, সামাজিক, আত্মিক অবস্থার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সন্তোষজনক জীবনমান।
চল্লিশের পর মনের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়; এটি স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের অপরিহার্য অংশ। আসুন, আমরা আমাদের মনের যত্ন নিই, একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকি এবং আরও সুস্থ ও আনন্দময় বার্ধক্যের জন্য একসঙ্গে কাজ করি।
অধ্যাপক তাহমিনা আখতার
উপাচার্য
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ