

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধ অথবা শান্তিকালীন সময়ে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে ৯ম পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবছর পতাকা পেয়েছেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এডি রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
এর আগে সাভার সেনানিবাসের পৌঁছে সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে যুগান্তকারী ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মানজনক অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এদিন ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করে। সেনাবাহিনীর এই গৌরবময় অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ইমেজ বিনষ্টের অপচেষ্টা হলেও স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেছিলেন। ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্ম ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলেই মনে করে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় শিল্পের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ইতোমধ্যেই জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তিনি সুসংবাদ দিয়ে বলেন, সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকার সেনা সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, এমনকি দেশের ভেতরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে ইট ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে থাকায় তারা কক্ষের ভেতরেই আটকা পড়েন। আগুনে রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নিহতরা হলেন- ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩), তার ভাগ্নে পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ (৫), ঢাকার সাভারে ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম। অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন হতাহতদের বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আগুন থেকে বাঁচতে যারা লাফিয়ে বের হতে পেরেছেন, তাদের অনেকে প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ পুলিশ জানায়, টুপটুপ রিসোর্টে মোট কক্ষ ছিল নয়টি। গত শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কারখানার হারবাল সেকশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬ইং) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ মিনিটে সফিপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা ওষুধ কারখানার একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলার হারবাল সেকশন বা স্টোরেজ এরিয়া থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশন থেকে প্রথমে ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিট এসে যোগ দেয়। ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যাল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন এবং পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার। ঢাকার জিরো ফোর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন ,ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে ধীরগতি
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজের গতি এক রকম নয়। কোথাও নির্মাণকাজ এগোলেও কোথাও ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর ও অন্যান্য জটিলতায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে আগের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এখন নতুন সময়সীমা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে জানান, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি তখন প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশাও প্রকাশ করেন তিনি। কতটুকু কাজ এগিয়েছে? সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক ঢাকা–সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ ২০২১ সালে শুরু হয়। প্রকল্পের মূল আওতায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার মহাসড়ক উন্নয়ন, চার লেনের মূল সড়কের পাশাপাশি সার্ভিস লেন, সেতু, কালভার্ট ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় মূল সড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, সার্ভিস লেনের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেতুর ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং কালভার্টের ৫৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সড়কমন্ত্রী জানান, আগের ছয় মাসে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ১৩ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশের বেশি হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, প্রকল্পের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোলেও পাঁচটি প্যাকেজের অগ্রগতি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে এপ্রিলের ২১ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে মন্ত্রীর উল্লেখ করা ৩৮ শতাংশের বেশি অগ্রগতির হিসাব দুটি ভিন্ন সময়ের। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের সর্বশেষ সমন্বিত সরকারি অগ্রগতি প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এই মুহূর্তে মোট কাজের সুনির্দিষ্ট হালনাগাদ শতাংশ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেন পিছিয়ে পড়েছে প্রকল্প? প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, নকশা সংশোধন, মাটির অবস্থা এবং ঠিকাদারি কাজের ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জটিলতা উল্লেখযোগ্য। আইএমইডির সমীক্ষায় ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব জটিলতা থাকায় অনেক স্থানে নির্মাণকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে কাজের অগ্রগতির পার্থক্য সামগ্রিক বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলছে। সড়কজুড়ে জনদুর্ভোগ, বাড়ছে প্রত্যাশা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে। সিলেটের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প এবং প্রবাসী আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। নির্মাণকাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সাময়িক ভোগান্তি ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে নির্মাণকাজ, সড়ক মেরামত কিংবা যান চলাচলের সংকীর্ণতা রয়েছে, সেখানে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, নিরাপদ যাতায়াত এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এসব সুফল পেতে হলে শুধু নির্মাণকাজ এগিয়ে নিলেই হবে না; সড়কের গুণগত মান, সঠিক নকশা, নিরাপত্তা এবং কার্যকর তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৯ সালের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? সরকারের নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা। কিন্তু প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং পিছিয়ে থাকা পাঁচটি প্যাকেজের অগ্রগতি বিবেচনায় এই সময়সীমা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত বা প্রকল্প কর্মকর্তাদের নতুন সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা যাচাই করা না থাকায় নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কাজের গতি বাড়ানো, নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে অগ্রগতির নতুন আশার কথা শোনা গেলেও কাজের বড় অংশ এখনো সম্পন্ন করা বাকি। ২০২৯ সালের জুনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ করা, পিছিয়ে থাকা প্যাকেজগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করা এবং নির্মাণকাজের মান বজায় রেখে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার ওপর। এখন সিলেটবাসীসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা—প্রতিশ্রুতি যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নেয়।

লালনের দর্শন ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী হেলাল
ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন লালন সাঁই। তাঁর মানবতাবাদী দর্শন ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে সাম্য ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁইকে শুধু গীতিকা র বা শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হবে। তিনি ছিলেন বাংলার মানবতাবাদী দর্শনের অন্যতম প্রতিকৃতি। ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর দর্শন ও গানের মাধ্যমে মানবতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর দর্শন আমাদের মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের পার্থক্য বিবেচনায় না এনে মানুষকে মানবিক মর্যাদায় গ্রহণ করতে হবে। সবার সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। তাহলেই বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শনের সঙ্গে সাম্য ও ঐক্যের যে চেতনা রয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয়, বর্ণগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষ নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অভিন্ন বাংলাদেশি পরিচয়ের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম।


