আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ ঘোষণা দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ৫০৩টি উপজেলার ইউএনওসহ জেলা ক্রীড়া অফিসার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সবার সাথে আলোচনা করে নতুন কুঁড়ি কার্যক্রম বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হয়েছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আসর। যে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নতুন কুঁড়ি শুরু করেছিল প্রথম আসরের পরে সেই কার্যক্রমে অনেকটাই সফলতা এসেছে বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়—গতানুগতিক ধারায় কোনো টুর্নামেন্ট শেষ হলে এরপর আর সেই খেলোয়াড়দের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তব চিত্র ছিল।’
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘এখানে আমরা একটু ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি এবং এটাকে স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছি। প্রথম আসরের যে ৩১০ জন ক্রীড়াবিদ পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়ে ইতোমধ্যে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের একটি ট্রেনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪০ দিনের এই ট্রেনিং সেশনের মধ্য থেকে যারা বিশেষ প্রতিভাবান তাদেরকে নির্বাচিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হবে, খেলাধুলার পাশাপাশি তারা যাতে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধু ঢাকার বিকেএসপি না অন্যান্য যে বিকেএসপিগুলো আছে, সেগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ভেতরে অন্যান্য বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কাজ চলমান রয়েছে।’
দ্বিতীয় আসরকে আরও একটু প্রসারিত করে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের দল গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১৬ লাখ ৩ হাজার। সেখানে রয়েছে প্রায় ৯ লাখের কিছু বেশি কিশোর এবং ৬ লাখ কিশোরী। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ৪২ শতাংশ কিশোরী এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে।
আমিনুল হক বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী ক্রীড়াঙ্গনে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ, সেটিতে আরও অনেকেই উৎসাহিত হবেন, অনেক পরিবার উৎসাহিত হবে। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে, সেই আশার আলো সেসব পরিবার দেখাতেই পারে।
প্রথম আসরের সঙ্গে আরও দুটি ইভেন্ট এবার যুক্ত হয়েছে, সেগুলো হলো—টেবিল টেনিস ও ভলিবল। সব মিলিয়ে ১০টি ইভেন্ট নিয়ে দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগের ইভেন্টগুলো হলো—অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডি।
রোজা, ঈদ ও স্কুলের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা পরিচালিত হবে। নতুন কুঁড়ির ক্যালেন্ডার সেভাবেই সাজানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যে দ্বিতীয় আসরে জাতীয় পর্যায়ের খেলার আগামী বছর এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের শুরুতে আয়োজন করতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
