রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকার দুটি মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হলেও অর্থ ছাড় পেতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগার কারণে এখনই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন চত্বরে ‘রংপুর নগরবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রশাসক ডন পরিষ্কার করে জানান যে, অর্থ ছাড় নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। ফলে আগামীকাল থেকেই রংপুরে সিটি করপোরেশনের দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তবে একবার কাজ শুরু হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি দুই মাস পরপর নিয়মিতভাবে কাজের অগ্রগতি নগরবাসীকে অবহিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নগরের সার্বিক উন্নয়নে সাধারণ নাগরিকদের সচেতন ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার নাগরিকদের কাছ থেকে যে কর আদায় করে, তা দিয়ে মূলত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করা হয়। নগরবাসী নিয়মিত কর পরিশোধ করলে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়বে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে নগরবাসীকে আরও উন্নত ও বর্ধিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশাসক জানান, বিগত পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশনের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই সীমিত রাজস্ব আয় দিয়ে নগরবাসীর সব অধিকার ও প্রত্যাশা পূরণ করা অত্যন্ত দুরূহ। তাই সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হাটবাজারসহ অন্যান্য সম্ভাব্য রাজস্ব উৎসের সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। রংপুর শহরকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান পরিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রংপুরের উন্নয়নে এই বিশাল বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান প্রশাসক ডন। একই সঙ্গে এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত উৎসাহ জোগানোর জন্য তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রংপুর মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য কাওছার জামান বাবলা, বিএনপি নেতা ডা. নিখিলেশ চন্দ্র গুহ রায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজু এবং সদস্যসচিব আতিকুল ইসলাম লেলিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব। অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রসিক প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
