প্রতিটি ভোটের জন্য সমর্থকদের খরচ করতে হচ্ছে এক ইউরো। সেই ভোটে লিওনেল মেসির চেয়ে অনেক এগিয়েও আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তবে শেষ পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ট্রফি উঠবে না পর্তুগিজ তারকার হাতে। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ বা ‘বোট’ নামের এই আয়োজন শুধুই সমর্থকদের ভোটাভুটি, আনুষ্ঠানিক কোনো ট্রফি নয়।
মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে ভোটের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসা উদ্যাপনের জন্য এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ট্রফির সম্পর্ক নেই। ফলে ভোটে জয়ী হওয়াকে রোনালদোর ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর কিংবা নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
অবশ্য সমর্থকদের এই লড়াইয়ে রোনালদোর দাপট আরও বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে, তার ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয় পেয়েছে মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির ২০১২ সালের জয় পেয়েছে ৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানেও আছেন রোনালদো; তার ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে পড়েছে ৬ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ শীর্ষ তিনটির দুটিই পর্তুগিজ তারকার দখলে।
এই ভোটাভুটিতে মূলত বেছে নেওয়া হচ্ছে সমর্থকদের প্রিয় ব্যালন ডি’অরজয়ী বছর। অন্তত দুবার পুরস্কারটি জিতেছেন, এমন ফুটবলারদের রাখা হয়েছে তালিকায়। তাদের প্রতিটি ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য রয়েছে আলাদা ভোট দেওয়ার সুযোগ। তাই এখানে মেসি কিংবা রোনালদোর পুরো ক্যারিয়ারকে একসঙ্গে বিচার করা হচ্ছে না।
রোনালদোর যে বছরটি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে, সেই ২০০৮ সালেই প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ৪২ গোল। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি ২০১২ পঞ্জিকাবর্ষে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৯১ গোল করে গড়েছিলেন ইতিহাস।
তবে ভোটের ব্যবধানের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে এতে অংশ নেওয়ার পদ্ধতিও। প্রতিবার ভোট দিতে এক ইউরো খরচ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। আনুষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই অর্থে ব্যালন ডি’অরের একটি ডিজিটাল ছবি কেনার সঙ্গে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। একজন চাইলে যতবার খুশি ভোট দিতে পারবেন; প্রতিবারই নতুন করে এক ইউরো দিতে হবে।
ফলে একই সমর্থক নিজের পছন্দের ফুটবলারের নির্দিষ্ট একটি বছরের পক্ষে বারবার ভোট দিতে পারছেন। এই ফল তাই কতজন আলাদা সমর্থক কাকে বেছে নিয়েছেন, তার সরাসরি হিসাবও নয়।
এখনো ভোটগ্রহণ শেষ হয়নি। আগামী ২৭ অক্টোবর প্যারিসের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে ২৮ অক্টোবর।
