চীনা রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো উত্তরাধিকারের প্রসঙ্গ। যে কারণে একটি প্রশ্ন সব সময়ই শোনা যায় যে, শি জিনপিং-এর পরে কে আসবেন? চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে স্পষ্ট, প্রকাশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো উত্তরাধিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সাধারণত দেখা যায় না। তাই পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক, ক্ষমতার বণ্টন এবং প্রভাবশালী নেতাদের উত্থান-পতন নিয়ে গুজব, বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক পূর্বাভাস নিয়মিত ছড়ায়।
চীন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং পার্টি সাধারণ সম্পাদকালয়ের শীর্ষ সচিব ছাই ছি শি জিনপিং-এর উত্তরাধিকার নন; বরং তাঁরা শি-এর শাসন টিকিয়ে রাখার দুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। এই বক্তব্যটি কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং শি জিনপিং-এর ক্ষমতার স্থাপত্য বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
লি চিয়াং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন, আর ছাই ছি পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। এই দুই নেতা আলাদা ক্ষেত্রে কাজ করলেও তাঁদের সম্পর্ক কেবল সহযোগিতার নয়; এটি একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক নির্ভরতা এবং শি জিনপিং-এর কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের অধীনতার সম্পর্ক।
চীনা নেতা শি জিনপিং-এর ক্ষমতার ত্রিভুজ আকারে বিরাজমান। শি জিনপিং, লি চিয়াং ও ছাই ছি—এই তিনজনের সম্পর্ককে একটি অসমান ত্রিভুজ হিসেবে বোঝা যায়। শি জিনপিং এই ত্রিভুজের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব। লি ও ছাই উভয়েই তাঁর অধীনে কাজ করেন, তবে তাঁদের দায়িত্ব আলাদা।
লি চিয়াং রাষ্ট্র পরিষদের প্রধানমন্ত্রী এবং পার্টি কাঠামোতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি অর্থনীতি, প্রশাসন, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন, বিদেশি সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সরকারি স্তরের সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন শাসন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। অন্যদিকে ছাই ছি পার্টির সাধারণ সম্পাদকালয়ের শীর্ষ সচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসের প্রধান। তিনি পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম, নেতৃত্বের যোগাযোগ, আদেশ বাস্তবায়ন এবং পার্টি কাঠামোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করেন।
এই বিভাজনের রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বড়। শি জিনপিং চান না কোনো একজন সহযোগী রাষ্ট্র বা পার্টির ক্ষমতার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন। তাই লি ও ছাই—দুজনকেই শক্তিশালী করা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। এটি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ নয়; বরং শি-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অটুট রেখে নেতৃত্বের ভারসাম্য তৈরির কৌশল।
লি চিয়াং-কে অনেকে শি জিনপিং-এর সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখেন, কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং পার্টি কাঠামোতে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। কিন্তু চীনের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদা সবসময় রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা দেয় না। লি চিয়াং-এর ভূমিকা মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার। তিনি অর্থনৈতিক নীতি, সরকারি প্রশাসন, বিদেশি সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক সরকারি সম্মেলন এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সামনে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনের সঙ্গে চীন–রাশিয়া সরকারপ্রধানদের নিয়মিত বৈঠক পরিচালনা করেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। একই সময়ে তিনি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সরকারপ্রধানদের বৈঠকেও অংশ নেন।
এই ভূমিকা তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান করে তোলে। কিন্তু এটি এমন নয় যে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় ক্ষমতার স্বতন্ত্র কেন্দ্র হয়ে উঠছেন। বরং লি চিয়াং শি জিনপিং-এর নির্ধারিত নীতি ও অগ্রাধিকার রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রধান প্রশাসনিক হাতিয়ার।
চীনের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের পদই ক্ষমতার আসল কেন্দ্র। সাধারণ সম্পাদক পার্টি, সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা কাঠামো, মূল নীতি ও নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই লি চিয়াং-এর প্রধানমন্ত্রী হওয়া তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকারী করে না।
পক্ষান্তরে, ছাই ছি-কে বাইরের অনেক পর্যবেক্ষক লি চিয়াং-এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, কারণ তিনি রাষ্ট্র পরিষদের প্রধানমন্ত্রী নন। কিন্তু চীনের পার্টি-কেন্দ্রিক ব্যবস্থায় ছাই ছি-এর প্রকৃত প্রভাব অত্যন্ত বড়। তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদকালয়ের শীর্ষ সচিব, যা পলিটব্যুরোর নির্বাহী কাঠামো হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসের প্রধান এবং ২০২৬ সালে বেইজিং-এর কেন্দ্রীয় পার্টি স্কুলের দায়িত্বও নিয়েছেন। এই পদগুলো তাঁকে পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম, নেতৃত্বের নির্দেশ বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রবাহ, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে প্রভাবশালী করে তোলে। অর্থাৎ ছাই ছি শুধু একজন প্রোটোকল-নেতা নন। তিনি শি জিনপিং-এর নির্দেশ পার্টি কাঠামোর ভেতরে বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান ব্যবস্থাপক। রাষ্ট্র পরিচালনায় লি চিয়াং যেমন গুরুত্বপূর্ণ, পার্টি পরিচালনায় ছাই ছি তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।
তারপরেও কেন তাঁরা উত্তরাধিকারী নন? লি চিয়াং ও ছাই ছি উভয়েই শি জিনপিং-এর ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী সহযোগী হলেও তাঁদের উত্তরাধিকারী হওয়ার দাবি এখনো দুর্বল। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, শি জিনপিং-এর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। শি জিনপিং শাসনামলে চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। পার্টির সাধারণ সম্পাদক, রাষ্ট্রপতি ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান—তিনটি শীর্ষ পদ একই ব্যক্তির হাতে থাকা শি-এর ক্ষমতার মূল ভিত্তি। এই কাঠামোয় কোনো সহযোগীকে প্রকাশ্যে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা মানে শি-এর নিজস্ব কর্তৃত্বকে দুর্বল করা।
দ্বিতীয়ত, ভূমিকার বিভাজন। লি ও ছাই-এর কাজ পরস্পর পরিপূরক, কিন্তু আলাদা। লি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন; ছাই পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। এই বিভাজন দুজনকে শক্তিশালী করলেও কাউকে একচ্ছত্র নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে যায় না।
তৃতীয়ত, প্রতিযোগিতার সুবিধা। লি ও ছাই একে অপরের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। শি জিনপিং এই প্রতিযোগিতাকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে পারেন। যখন দুই শক্তিশালী সহযোগী একে অপরের ওপর নজর রাখে, তখন কেউই স্বাধীন ক্ষমতাকেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ কম পায়।
চতুর্থত, উত্তরাধিকার নির্বাচনের অনুপস্থিতি। চীনে উত্তরাধিকার নির্বাচন প্রকাশ্যে হয় না। পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব সাধারণত কংগ্রেস, পলিটব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এখনো এমন কোনো প্রকাশ্য সংকেত নেই যে লি বা ছাইকে উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে চীনে গুজব কেন ছড়ায়? শি জিনপিং-এর পরে লি চিয়াং বা ছাই ছি আসবেন—এমন গুজব ছড়ানোর কারণ শুধু রাজনৈতিক কৌতূহল নয়। এর পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে।
প্রথমত, চীনের রাজনীতি অস্বচ্ছ। পার্টির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব, নিয়োগ ও পদত্যাগের প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আসে না। ফলে বাইরের পর্যবেক্ষকরা সীমিত সংকেত থেকে বড় ব্যাখ্যা তৈরি করেন। দ্বিতীয়ত, শি জিনপিং-এর বয়স ও দীর্ঘ শাসনামল উত্তরাধিকারের প্রশ্নকে স্বাভাবিকভাবেই জরুরি করে তুলেছে। তৃতীয়ত, লি ও ছাই উভয়েই শি-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রভাবশালী পদে আছেন। চতুর্থত, চীনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা, বিদেশি বিশ্লেষকরা এবং মিডিয়া প্রায়ই উত্তরাধিকারের গল্পকে রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে, যা গুজবে পরিণত হয়।
কিন্তু গুজবের অস্তিত্ব মানেই তা সত্য, এমন নয়। বরং গুজবগুলো দেখাচ্ছে যে শি জিনপিং-এর শাসনে লি ও ছাই কতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকায় িআছেন। তাছাড়া, শি জিনপিং-এর শাসনকৌশল বেশ বিচিত্র। শি জিনপিং-এর শাসনকৌশলকে “এক নেতা, দুই স্তম্ভ” হিসেবে বোঝা যেতে পারে। শি নিজে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব। লি চিয়াং রাষ্ট্র ও অর্থনীতির প্রশাসনিক স্তম্ভ; ছাই ছি পার্টি ও নেতৃত্বের দৈনন্দিন স্তম্ভ। এই কাঠামোর সুবিধা হলো: শি জিনপিং নিজে সব দৈনন্দিন কাজে সরাসরি জড়াতে হয় না। রাষ্ট্র ও পার্টির কাজ আলাদা হাতে থাকে। কোনো সহযোগী একচেটিয়া ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না। শি-এর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি থাকে।
কিন্তু এই ব্যবস্থার দুর্বলতাও আছে। যদি লি ও ছাই-এর মধ্যে গভীর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তাহলে তা নীতি বাস্তবায়নে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। আবার যদি শি জিনপিং-এর স্বাস্থ্য, রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্তৃত্ব দুর্বল হয়, তাহলে এই অসমান ত্রিভুজ নতুন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে। এ কারণেই লি চিয়াং ও ছাই ছি-এর ভূমিকা কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এর আন্তর্জাতিক তাৎপর্যও আছে। লি চিয়াং বিদেশি সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চীনের বৈদেশিক অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি প্রধান মুখ।
ছাই ছি-এর ক্ষমতা মূলত অভ্যন্তরীণ, কিন্তু তার প্রভাব বৈদেশিক নীতিতেও পড়ে। কারণ পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম, নেতৃত্বের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও কেন্দ্রীয় কমিটির অফিস নিয়ন্ত্রণ বৈদেশিক নীতির বাস্তবায়নকেও প্রভাবিত করে। তাই লি ও ছাই-এর সম্পর্ক বোঝা মানে শুধু চীনের নেতৃত্বের গঠন বোঝা নয়; এটি চীনের বৈদেশিক নীতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বোঝার অংশ।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য চীনের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চীনের নেতৃত্বের এই কাঠামো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের বৈদেশিক নীতি, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, সীমান্ত ও আঞ্চলিক কূটনীতি এই নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়। লি চিয়াং-এর প্রাধান্য মানে বৈদেশিক সম্পর্কে সরকারি ও অর্থনৈতিক চ্যানেল আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ছাই ছি-এর প্রাধান্য মানে পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে দুই ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্র শি জিনপিং। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো—চীনের সঙ্গে সম্পর্কে শুধু রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক চ্যানেলের ওপর নির্ভর করা যাবে না। পার্টি-কাঠামো, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক—সবগুলোর কার্যপদ্ধতি বোঝা দরকার।
আসলে লি চিয়াং ও ছাই ছি শি চীনা নেতা জিনপিং-এর শাসনের দুই প্রধান স্তম্ভ। লি রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনা করেন; ছাই পার্টির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁরা শি-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী, কিন্তু তাঁদের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই।
শি জিনপিং-এর শাসনকৌশল হলো—ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রেখে নির্ভরযোগ্য সহযোগীদের মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করা। লি ও ছাই সেই কাঠামোর দুই প্রধান বাহক। তাঁদের মধ্যে সহযোগিতা আছে, সম্ভাব্য প্রতিযোগিতাও আছে; কিন্তু উভয়েই শি-এর কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করেন।
চীনের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট—লি চিয়াং ও ছাই ছি শি জিনপিং-এর সৈনিক হিসেবেই কাজ করছেন; তাঁরা এখনো উত্তরাধিকারী নন। সেটা তারা হতে পারেন, না-ও পারেন। উত্তরাধিকার নির্ধারিত হওয়ার জন্য অনেক রাজনৈতিক বিবেচনা ও উত্থান-পতন পেরুনোর প্রয়োজন রয়েছে।
