Published on
:
2 min read
এই সময়: টাটা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের জনহিতকর কাজ, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং স্বাতন্ত্র রক্ষা করতে এ বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করল পার্সি ও জ়োরোস্ট্রিয়ান সম্প্রদায়ের ছ’টি সংগঠন। টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে গোষ্ঠীর অন্দরে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে সংগঠনগুলি। তাদের আশঙ্কা, টাটা সন্স শেয়ারবাজারে নথিভুক্তি হলে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বশীল পরিচালনা ধাক্কা খেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে বাজারের প্রত্যাশা। তার ফলে দেশের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর চ্যারিটেবল কর্মকাণ্ড, ঐতিহ্য এবং নিজস্ব পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৭ অক্টোবর লেখা ওই চিঠির কথা প্রকাশ করেছে মুম্বই মিরর। চিঠিতে টাটা ট্রাস্টস এবং টাটা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে গোষ্ঠীর বর্তমান চরিত্র অপরিবর্তিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বম্বে পার্সি পঞ্চায়েত, ফেডারেশন অফ পার্সি জ়োরোস্ট্রিয়ান আঞ্জুমানস অফ ইন্ডিয়া, ফেডারেশন অফ জ়োরোস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনস অফ নর্থ আমেরিকা, জ়োরোস্ট্রিয়ান ট্রাস্ট ফান্ডস অফ ইউরোপ, গ্লোবাল কাউন্সিল অফ জ়োরোস্ট্রিয়ান ট্রাস্ট এবং ওয়ার্ল্ড জ়োরোস্ট্রিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিরা সই করেছেন।
ধর্মীয়, সামাজিক, দাতব্য ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সক্রিয় এই সংগঠনগুলি ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পার্সি ও ইরানি জ়োরোস্ট্রিয়ান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের মতে, টাটা সন্স-এর শেয়ারবাজারে নথিভুক্তির প্রশ্নটিকে শুধুমাত্র নিয়ামক সংস্থার নিয়ম মেনে চলার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দেশের প্রতি তার অবদানের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, টাটা গোষ্ঠী শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের অন্যতম সম্মানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। বিশ্বে তার পরিচিতি এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক অবদানের কারণে এই গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ চরিত্র রক্ষা করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত।
ভারতের শিল্প ও সমাজজীবনে পার্সি সম্প্রদায়ের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও জামশেদজি টাটা, জেআরডি টাটা, হোমি ভাবা, স্যাম মানেকশ এবং নানি পালখিওয়ালার মতো ব্যক্তিত্ব দেশের শিল্প, বিজ্ঞান, প্রতিরক্ষা ও আইনজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সংগঠনগুলির মতে, এই অবদানের পিছনে ছিল দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি, প্রতিষ্ঠান গড়ার মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত মুনাফার বাইরেও বৃহত্তর সমাজ গড়ার ভাবনা। উদাহরণ হিসেবে, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টাটা পরিবারের অবদান চিঠিতে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
