পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করেও ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে না দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মানিক মাতুব্বর (৫৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ইদ্রিস হোসেন (৪৬)। লিখিত বক্তব্যে তিনি জমি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে না দেওয়া এবং একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে ইদ্রিস হোসেন জানান, উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাসেম আলী মাতুব্বরের ছেলে মানিক মাতুব্বর বিভিন্ন সময়ে একাধিক রেজিস্ট্রি কবলামূলে একই বংশের সুলতান মাতুব্বর ও তাঁর ওয়ারিশদের কাছে মোট ৯৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। তবে জমির সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণ করলেও ক্রেতাদের এখনো জমির দখল বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইদ্রিস হোসেন আরও বলেন, জমির দখল চাইতে গেলে মানিক মাতুব্বর চড়াও হন। জমির দখল বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো সুলতান মাতুব্বর ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মঠবাড়িয়া থানা ও স্থানীয় আদালতে একাধিক মামলা দায়েরের কারণে পরিবারগুলো ভোগান্তিতে পড়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ করেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও মানিক মাতুব্বর তা মানেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বর্তমানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিষয়টি সমাধানের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, মূল ঘটনা আড়াল করতে এবং চলমান প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত ৫ অক্টোবর মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে মানিক মাতুব্বর একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ইদ্রিস হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি ক্রয়কৃত জমির দখল ফিরে পাওয়া এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে প্রতিকার পেতে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পিরোজপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মানিক মাতুব্বরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
