বর্ষা মৌসুম বিদায় নেওয়ার পর চলছে হেমন্ত কাল। হেমন্তের আগাম নবান্নে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দম ধরেছে নদ-নদীর পানি। আর এর মধ্যেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন নদীঅববাহিকায়।
ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক এলাকা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। তিস্তাপাড়েও একই চিত্র। অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিলীন হয়েছে ১৮ পরিবারের ঘরবাড়ি। ভেঙে যাচ্ছে ফসলি জমি। কৃষক বাধ্য হয়ে স্বপ্নের আমন ধান কেটে খাওয়াচ্ছেন গবাদিপশুকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি বিলীন হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র স্রোতে নদীরপাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও নদীগর্ভে চলে গেছে বসতভিটা, কোথাও রয়েছে ভাঙনের মুখে। অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনের শিকার হয়েছে ওই চরের ১৮টি পরিবার। তারা হলেন— বাবর আলী, গোলাপী বানু, গোলজার হোসেন, নুর ইসলাম, মতিয়ার রহমান, আহাদ আলী, জহুরা বেগম, আসাদুল ইসলাম, আব্দুল হক, মইনুল ইসলাম, শাহ আলম, নজু মিয়া, মোন্নাফ আলী, আবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, দুলু মিয়া, নুরল ইসলাম ও নাজমুল হক। ভাঙন-আতঙ্কে তাদের মধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। ওই এলাকায় এরই মধ্যে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা।
ভাঙনের শিকার জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। এবারের মূল বন্যায় তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে হঠাৎ তিস্তার স্রোতের গতিপথ চরের দিকে পরিবর্তন হলে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
লক্ষ্মীটারী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বললেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের ভাষ্য, তিস্তার ভাঙনে বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বললেন, ‘বন্যার পর হঠাৎ করে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বিষয়টি। পরিস্থিতি দেখে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
