তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ড: অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত ও নিহত সাংবাদিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি চায়ের দোকানের সামনে আলিফকে গুলি করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত পরিচালনাকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল।
চিকিৎসক জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ বলেন, “শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনে থেকে গুলি করা হয়েছে।”
নিহত আলিফ আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন।
আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বলেন, সন্তানদের খাওয়ানোর সময় গুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। কিছুক্ষণ পর লোকজনের মুখে স্বামীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানতে পারেন।
তিনি বলেন, “আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাব না। যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি শ্বশুরবাড়ি তেলনজিয়া গ্রামে বসবাস করতেন। গ্রামটিতে গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার সাকের আহমেদ জানান, ঘটনার পর থেকেই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং আলিফের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
