লালমনিরহাটে ঘুষের বিনিময়ে মাদকসহ আসামিকে ছেড়ে দেওয়া, উদ্ধার করা হেরোইনের পরিমাণ কম দেখানো ও ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক গ্রামপুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন, এসআই মশিউর, এসআই সৌরভ ও এএসআই শাহ আলম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে শহরের বসুন্ধরা এলাকার সাব্বির হোসেনের ছেলে হেলালকে (৩২) হেরোইনসহ আটক করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হলেও তা জনসম্মুখে ওজন না করে পরবর্তীতে মামলার এজাহারে পরিমাণ মাত্র ৫ গ্রাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আটক হেলালের সঙ্গে থাকা উজ্জ্বল নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে মাদকসহ ধরা হলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোয় গ্রামপুলিশ আবু তালেব মিয়া লাঞ্ছনার শিকার হন। গ্রামপুলিশ আবু তালেব জানান, ওই রাতে বত্রিশ হাজারী স্কুল মোড় এলাকায় রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এসআই সৌরভসহ তিন কর্মকর্তা তাকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাতকড়া পরানোর ভয় দেখায়। তার এ অভিযোগের পর স্থান ও সাক্ষী নির্বাচন নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর মার্কেটের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম ও মনির হোসেন জানান, ওইদিন সেখানে অভিযান বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের দাবি, মার্কেট থেকে ২০০ গজ পূর্বে এক নির্জন স্থানে এ কার্যক্রম চালানো হয়। অন্যদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় সংবাদকর্মী আলম ও অটোচালক শামীমকে ডেকে নিয়ে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদক উদ্ধারের প্রকৃত স্থান, গোপনীয় ওজন, বহিরাগতদের সাক্ষী করা এবং আসামি ছেড়ে দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘মাদকসহ কেবল একজনকেই আটক করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে গ্রামপুলিশকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে অবগত নই।’