নাটোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ চলতি বছরের ১২ মে শেষ হয়েছিল
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
নাটোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ চলতি বছরের ১২ মে শেষ হয়েছিল।
আজ ভোর ৫টার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের সরদারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফিরোজপুর থেকে নাটোরে যাচ্ছিল। সরদারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পঞ্চগড় থেকে পাবনাগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা আরব আলীর ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার আত্মীয় শালাল মোল্লা (৪৫) এবং কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫)।
নিহতদের মধ্যে আরো রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), একই জেলার মির্জাগঞ্জের আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক আবুল কালাম, নওগাঁর শান্তাহারের সাজ্জাদ আলীর ছেলে রাসেল আলী (৩৩) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখনদিয়া এলাকার ওমর কুমার জমাদারের ছেলে হিমেজ জমাদার (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসন ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
