
দুয়ারে দুর্গাপূজা, দুপচাঁচিয়ায় রঙ-তুলিতে দেবীকে সাজাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
দুয়ারে নাড়ছে কড়া। আর মাত্র ক’দিন পড়েই শুরু হবে সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা।
উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। মাটির কাঠামোর কাজ শেষ করে প্রতিমার রঙ তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। কোথাও রঙের তুলির আঁচড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে মনের মাধুরী মিশিয়ে কাজে ব্যস্ত আবার কোথাও চলছে দেবীর গহনা ও পোশাকের সাজসজ্জার কাজ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ দেবীর চক্ষুদান বা চোখ আঁকার কাজে নিখুঁত মনোযোগ দিচ্ছেন প্রধান কারিগররা। তারা বলেন, ভক্তদের প্রতিমার সৌন্দর্য ভালো লাগলে তাদের কাজের সার্থকতা আসে।
কয়েকজন মৃৎশিল্পী জানান, প্রতিমা তৈরী মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে ফিনিশিং ও রঙের কাজ। তবে বাঁশ, খড়, মাটি ও রঙের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরীর খরচ গত বছর তুলনায় অনেকটায় বেড়ে গেছে।
প্রতিমা সৌন্দর্যের পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজেও ব্যস্ততা দেখা গেছে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে। মণ্ডপের প্রবেশ পথ হতে মণ্ডপ পর্যন্ত কি ধরনের সাজসজ্জা করলে আকর্ষণীয় হবে তা নিয়ে আলোচনা করছেন মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ও ডেকোরেশন মালিক। এমনি এক পূজা মণ্ডপ উপজেলার তালোড়া পার্শী বাড়ি পূজা মণ্ডপ। মণ্ডপের সামনে থেকে গেট হতে শুরু করে ভিতরে নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন তারা।
একান্ত আলাপচারিতায় পার্শী বাড়ি পূজা মণ্ডপের স্বত্বাধিকারী দিলীপ পার্শী জানান, মা রূপী দেবী দুর্গা পূজায় প্রতিমার পাশাপাশি গেট ও আনুসঙ্গিক কাজ সুন্দর করার চেষ্টা করেছি। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের যেন উপভোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ এগিয়ে চলছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার দাস বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর উৎসবের প্রত্যাশা করছি।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার সকল পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
