নিজেদের মেগা রকেট স্টারশিপের ১৫তম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন রকেট ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী কোম্পানি স্পেসএক্স।
প্রথমবারের মতো সুপার হেভি বুস্টারের পাশাপাশি রকেটের ওপরের অংশ বা মূল মহাকাশযান ‘শিপ’কেও ফিরিয়ে এনে কোম্পানিটি তার উৎক্ষেপণ টাওয়ারের যান্ত্রিক বাহু দিয়ে ধরে ফেলার চেষ্টা করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরাসরি সম্প্রচারিত কোম্পানিটির আয়-ব্যয়সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে এই পরিকল্পনার কথা বলেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
আগামী মাসেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই মার্কিন ধনকুবের।
সম্প্রচারের সময় প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশযান ‘শিপ’ পৃথিবীতে ফিরে এলে কীভাবে সেটিকে নিরাপদে ধরে ফেলা হবে, তার একটি সিমুলেশন দেখানো হচ্ছে।
স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে এর দুটি অংশই সমুদ্রে নামানো হয়েছিল। এবার উৎক্ষেপণ টাওয়ারের ‘চপস্টিক’ নামের যান্ত্রিক বাহু ব্যবহার করে মূল মহাকাশযানটিকেও আকাশেই ধরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স।
এর আগে এই যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে সুপার হেভি বুস্টারকে সফলভাবে ধরে ফেলেছে কোম্পানিটি। তবে রকেটের দ্বিতীয় ধাপ ‘শিপ’কে এভাবে ধরার চেষ্টা এবারই প্রথম।
ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানের খরচ ও সময় কমাতে স্টারশিপকে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় স্পেসএক্স। এ ব্যবস্থায় রকেটের দুই অংশই দ্রুত ফিরিয়ে এনে আবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
চাঁদ ও মঙ্গলে নভোচারী এবং প্রয়োজনীয় রসদ পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে মহাকাশযানটি তৈরি করছে কোম্পানিটি।
আগামী মাসের পরীক্ষায় দুই অংশকেই সফলভাবে ধরে ফেলতে পারলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির অগ্রগতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে স্টারশিপের ওপরের অংশ বা ‘শিপ’কে অবতরণের সময় চপস্টিক বাহু দিয়ে ধরে ফেলার চেষ্টা করেনি স্পেসএক্স।
কারণ, এ অংশটি রকেটের নিচের বুস্টারের চেয়ে বেশি উচ্চতায় ও দূরে ভ্রমণ করে। এর গতিও বুস্টারের চেয়ে অনেক গুণ বেশি।
মহাকাশযানটির ১৪তম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ‘শিপ’-এর মহাকাশে প্রায় ১০ ঘণ্টা কক্ষপথ প্রদক্ষিণের কথা ছিল।
তবে ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে স্পেসএক্সকে সেই সফর কিছুটা সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছিল। এটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
অন্যদিকে, রকেটের মূল সুপার হেভি বুস্টারটি উৎক্ষেপণের কেবল কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৃথিবীতে ফিরে আসে।
এই দুই অংশের গতিপথ, গতি ও পৃথিবীতে ফেরার সময়ের পার্থক্য সামলানোই স্পেসএক্সের নতুন পরীক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ। ‘শিপ’কে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে এনে চপস্টিক বাহুর সাহায্যে ধরে ফেলতে পারলে স্টারশিপকে দ্রুত পুনর্ব্যবহারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে কোম্পানিটি।
