২২ গজের ক্রিকেট উত্তেজনা কিংবা জমকালো লাইভ কনসার্টÑ মাইক্রোফোন হাতে স্ক্রিনে তার আগমন ঘটলেই দর্শকের চোখ আটকে যায়। মিষ্টি হাসি, নিখুঁত উচ্চারণ আর উপস্থিত বুদ্ধির জাদুতে যিনি বছরের পর বছর বিনোদনপ্রেমীদের বুঁদ করে রেখেছেন, তিনি শ্রাবণ্য তৌহিদা। তবে রুপালি পর্দার এই গ্ল্যামারের আড়ালে রয়েছে এক কঠোর পরিশ্রমী ও মানবিক হৃদয়ের গল্প। তিনি শুধু লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ার রানি নন; বরং একজন পূর্ণকালীন নিবন্ধিত চিকিৎসকও।
আজ এই উপস্থাপিকার জন্মদিন। প্রতি বছর জীবনের এই বিশেষ দিনটা বেশ জমকালোভাবে কাটলেও এবার কাটবে সাদামাটা। কারণ জানিয়ে রূপালী বাংলাদেশকে শ্রাবণ্য বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছেন। বাবা ছাড়া প্রথম জন্মদিন। যে কারণে খুব মন খারাপ। এবার সে রকম পরিকল্পনা নেই। পরিকল্পনা ছাড়াই এবারের জন্মদিন কাটবে। তবে ব্যস্ততায় দিনটা কাটবে। কাজের জায়গায় দিনটি ভাগাভাগি হবে। সবাই জন্মদিন ঘিরে বড় পরিসরে পরিকল্পনা করতে চেয়েছিল, কিন্তু এবার ঘরোয়াভাবেই কাটবে। বাবার জন্য দোয়ার আয়োজন করব।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শৈশবের জন্মদিন ছিল এশরকম, এখন অন্য রকম। দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। তবে এখনকার জন্মদিন বেশ উপভোগ করি। সবাই নানাভাবে দিনটি রঙিন করে। প্রতি বছর ১৫টির বেশি কেক কাটা হয়। আমার জীবনের সেরা উপহার ছিল বাবার দেওয়া কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবালের এক বাক্স বই। বিষয়টা মজার ছিল এবং আমার কাছে সেরা। যে কারণে এবারের জন্মদিন বেশি মিস করব। এ ছাড়া বেলি ফুলসহ নানান উপহার পাই। সত্যিই আমি অনেক ভাগ্যবান। কারণ অগণিত মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এক জীবনে এটাই বড় প্রাপ্তি।’
উপস্থাপনায় শ্রাবণ্য তৌহিদা এক অতি পরিচিত নাম। শুধু গ্ল্যামার দিয়ে নয়, খেলার খুঁটিনাটি ও পিচ রিপোর্ট নিয়ে তার তুখোড় জ্ঞান বিশেষজ্ঞদেরও চমকে দেয়। বিশ্বসেরা কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি মহাতারকাদের সাবলীল সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন নিজের প্রজ্ঞা ও বাকপটুতা। বর্তমানে তিনি এটিএন বাংলা, গ্লোবাল টিভি, নাগরিক টিভিতে নিয়মিত উপস্থাপনা করছেন।
শ্রাবণ্যর নামের মাঝেই যেন লুকিয়ে আছে এক স্নিগ্ধ বর্ষার মেঘ, আর হাসিতে শরতের শুভ্র কাশফুল। টেলিভিশনের কাচের ওপারে যখন তিনি দাঁড়ান, কথামালা যেন সুরের মূর্ছনা হয়ে ঝরে পড়ে। শ্রাবণ্য মানেই তো কেবল গ্ল্যামার নয়, শ্রাবণ্য মানে এক অদম্য পথচলার গল্প। শত ব্যস্ততা, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ঝলকানি আর হাসপাতালের সাদা অ্যাপ্রনের মাঝেও তিনি হারিয়ে ফেলেননি নিজের ভেতরের সেই চিরসবুজ মানুষটিকে।
সঞ্চালনার পাশাপাশি অভিনয়ের আঙিনায়ও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন শ্রাবণ্য। তাকে বেশ কিছু নাটকে দেখা গেছে। উপস্থাপনার পাশাপাশি ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অভিনয়েও সরব থাকতে চান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রের (গইইঝ) ডিগ্রি নেওয়া এই উপস্থাপিকা পেশাগতভাবে একজন ডাক্তার। হাসপাতালের সাদা অ্যাপ্রন জড়িয়ে যখন তিনি রোগী দেখেন, তখন তিনি ভীষণ সিরিয়াস। আবার সেই ব্যস্ততা সামলে যখন শোর মঞ্চে দাঁড়ান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন আত্মবিশ্বাসী এক গ্ল্যামারাস সঞ্চালক। মেধা আর রূপের অনন্য মিতালিতে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অন্য উচ্চতায়।
