Published on
:
2 min read
এই সময়: সপ্তমীর সারা দিন যানজটে ভুগল শহর কলকাতা। পাতালপথেও ভিড়ে নাজেহাল হতে হলো সাধারণ মানুষকে।
ভিড় বাড়লেও ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে পুলিশি মহলেই। মণ্ডপে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য তৈরি ব্যারিকেড বহু জায়গায় সপ্তমীর রাত পর্যন্ত অসমাপ্ত। চিত্তরঞ্জন (সিআর) অ্যাভিনিউ, জওহরলাল নেহরু রোড, থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূপর্ণ সব রাস্তাতেই ট্র্যাফিকের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এতে এসপ্ল্যানেড, হাতিবাগান, বিধান সরণি, কলেজ স্ট্রিট এলাকায় যানবাহনের চাপে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা কার্যত তালগোল পাকিয়েছে।
এরই মধ্যে এদিন সন্ধের পরে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে শহর জুড়ে। এতে বাড়িমুখী বহু মানুষ আটকে পড়েন। টানা বৃষ্টিতে বেশ কিছু রাস্তায় জলও জমে। বৃষ্টির জন্য বিপাকে পড়েন অসংখ্য মানুষ। জ্যামের কারণে, ভিড়ের একটি বড় অংশ মেট্রোর দ্বারস্থ হলেও পাতালেও ভিড়ের চাপে ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। ব্লু-লাইন এবং গ্রিন লাইনে ভিড়ের চাপে মেট্রোর দরজা বন্ধ করা যায়নি অনেক সময়েই।
কলকাতার ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় সমস্যা শুরু হয় দেড়-দু’সপ্তাহ আগেই। শহরের যে সব রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই রাস্তাগুলিতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছে যানবাহন। সিআর অ্যাভিনিউ এবং জওহরলাল নেহরু রোডে দিনভর যানবাহন কার্যত স্তব্ধ থেকেছে। লেনিন সরণি হয়ে কলেজ স্ট্রিট যাওয়ার রাস্তায় আটকে পড়েন অনেকেই।
অন্যদিকে ধর্মতলা হয়ে পার্ক স্ট্রিট, রবীন্দ্রসদন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষ রোড বরাবর দক্ষিণ কলকাতার রাস্তাগুলিতেও ছিল তীব্র যানজট। দক্ষিণের গড়িয়াহাট, ঢাকুরিয়ায় ভিড় ছিল ভালোই। অন্য দিকে ভিড়ের প্রভাব পড়েছে ‘মা’ উড়ালপুলেও। এই উড়ালপুলে যানবাহন থমকে যাওয়ায় সল্টলেক, নিউ টাউন-সহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ইএম বাইপাস লাগোয়া একাধিক জায়গা, বেলেঘাটা মেন রোডে সকাল থেকেই যানবাহন দীর্ঘক্ষণ থমকে থেকেছে।
পুলিশি মহলের একাংশ এই যানজটের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টকেই। তাঁরা জানাচ্ছেন, কোনও রাস্তায় ভিড় থাকলে অন্য কোন রাস্তা দিয়ে যানবাহন ঘোরানো হবে, তারও কোনও পরিকল্পনা নেই ট্র্যাফিক পুলিশের। কিছু ক্ষেত্রে যান নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা দেখা যায়নি। সব থেকে বেশি অসুবিধা হচ্ছে, রাস্তার উপরে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য।
