ঋণখেলাপি দুটি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের অনুকূলে ঋণ সুবিধা দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত দুই ব্যাংককে ব্যাংক কোম্পানি আইনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১২ অক্টোবর) আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সংযুক্ত করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি সার্কুলার লেটার পাঠানো হয়।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ঋণখেলাপি গ্রাহক বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের অনুকূলে ১০০ শতাংশ মার্জিনের বিপরীতে ঋণপত্র স্থাপন ও চলতি মূলধন প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। এই অব্যাহতি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
তবে এর জন্য দুটি শর্ত দেয়া হয়েছে। প্রথমত, এই ঋণ সুবিধার বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না এবং ভবিষ্যতে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের সব আয় একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে ন্যাশনাল ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসির গ্রাহক শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান চলতি মূলধন সীমা নবায়নের ক্ষেত্রে ২৭কক(৩) ধারার নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর হবে না। নবায়নযোগ্য মোট সীমা ১০৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে সিসি-হাইপো ৫৫ কোটি টাকা, ১৫ শতাংশ মার্জিনে এলসি ২৫ কোটি টাকা এবং ১০ শতাংশ মার্জিনে এলটিআর ২৫ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রেও একই ধরনের দুটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই ঋণ সুবিধার বিপরীতে অর্থ বিভাগের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না এবং ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক সরকারের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। পাশাপাশি শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডের সব আয় একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সোনালী ব্যাংকের পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারায় সাধারণত ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ বা ঋণসুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুনির্দিষ্ট এই দুই ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।
