শুকুর মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনেক নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি ও ভীতসন্ত্রস্ত করা হতো। এসব মামলা ও হয়রানির কারণে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয় এবং তাঁকে আইনি জটিলতা ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মামলা হয়েছে, আদালতের বারান্দায় বুক উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। হয়রানির শিকার হয়েছি, তবুও মাথা নত করিনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস একদিন সত্যকে তুলে ধরবেই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার বিষয়ে পুলিশের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তাঁদের কেউ কেউ অসহায়ভাবে বলতেন, “উপর থেকে নির্দেশ, মামলা তো করতেই হবে।” তাঁর দাবি, সে সময় এমন পরিস্থিতির কারণে আইনি প্রতিকার পাওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখার পরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন শুকুর মাহমুদ। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অবিচল ছিলেন বলে জানান তিনি।শুকুর মাহমুদের মতে, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসই তাঁকে কঠিন সময় মোকাবিলা করার শক্তি জুগিয়েছে। অতীতের সেই দিনগুলোর স্মৃতি বেদনাদায়ক হলেও অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করাকে তিনি নিজের দৃঢ়তার পরিচয় হিসেবে দেখেন।
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাবের ঊর্ধ্বে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন কোনো নাগরিককে অন্যায়ভাবে মামলা, হয়রানি কিংবা নির্যাতনের শিকার হতে না হয়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মামলাগুলোর বিবরণ কিংবা আদালতের নথি পাওয়া গেলে ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
The post মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি, তবু মাথা নত করিনি: বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ appeared first on ভোরের চেতনা.
