বাণিজ্যিক বাধা কাটাতে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ও ভারত। তবে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ওই বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসেনি কোনো পক্ষের। বৈঠকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা তুলে ধরে তা দূর করার আহ্বান জানায় ভারত। অন্যদিকে, ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহার বা পর্যালোচনার দাবি জানায় ঢাকা। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি দুই পক্ষ। ফলে পুরনো বাণিজ্যিক বাধা নিরসনের প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে যৌথ কর্মদলের বৈঠক। প্রায় চার বছর পর গত ৮ ও ৯ই অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদল। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ বিরতির পর বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কর্মদলের বৈঠকটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজ নিজ দাবির বিষয়ে উভয় পক্ষই অনড় থাকায় অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে সমাধানের পথ তৈরি হয়নি। সূত্র বলছে, বৈঠকে বাংলাদেশে ফল, চাল, লোহা ও ইস্পাত রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক নিয়ে আপত্তি জানায় ভারত। একই সঙ্গে ভারতীয় তুলা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক তালিকা চালু এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত হাট, সমন্বিত চেকপোস্ট ও স্থল শুল্ক স্টেশনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরে দেশটি। অন্যদিকে, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার বা পর্যালোচনার দাবি জানায় ঢাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় তোলে বাংলাদেশ। ভারতীয় মান নির্ধারণকারী সংস্থার সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং পণ্যের মানসংক্রান্ত বিধিবিধান দুই দেশের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপরও গুরুত্ব দেয় ঢাকা। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখার বিষয়টি আলোচনায় তুলেছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরের সড়ক ও গুদাম অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরীক্ষা ও ছাড়করণ দ্রুত করা এবং স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ বিরতির পর বৈঠকে বসার মধ্যদিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে ফিরেছে। তবে বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং বাণিজ্য ঘাটতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।
