নিজ অর্থায়নে কাঠের সেতু নির্মাণ ছাত্রদল নেতার
প্রতিনিধি, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২:২৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জোরখলার গোদারাঘাট। এই ঘাট পার হতে একসময় মোটরসাইকেলচালকদের গুনতে হতো ২০ থেকে ৩০ টাকা। মালামাল নিয়ে পারাপারে ব্যবসায়ীদের খরচ পড়ত কয়েক শ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন যাদের এই পথ পাড়ি দিতে হয়, তাদের জন্য ঘাটের এই খরচ ছিল বাড়তি বোঝা। এবার সেই ঘাটে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে পারাপার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু।
গত বছরের মতো এবারও নিজের অর্থায়নে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার মধ্যে চলাচলকারী মানুষ বিনা ভাড়ায় ঘাট পার হতে পারছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই পথে ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলা সদর থেকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এই গোদারাঘাট। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হতো। ইজারাদারেরা মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া নিতেন। অটোরিকশা, সিএনজিচালক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদেরও এই ঘাট পার হতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
এবার ঘাটটি উন্মুক্ত করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন মিজানুর রহমান মিনু। ফলে যাতায়াতের খরচ কমার পাশাপাশি পারাপারেও স্বস্তি এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে নিয়মিত যাতায়াতকারী নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ কাজে এসেছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক দেবল সরকার বলেন, ‘আগে ঘাট পার হতে ৩০ টাকা দিতে হতো। এখন বিনা খরচে পার হতে পারছি। মিনুর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
কলমাকান্দা উপজেলার ব্যবসায়ী মৃদুল দেবনাথেরও এই পথে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া-আসা করতে ৬০ টাকা খরচ হতো। মালামাল নিয়ে পারাপারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাগত। এখন বিনা ভাড়ায় পারাপারের সুযোগ হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন স্থানীয় শিক্ষক সাগর সরকার বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে স্কুলে যাতায়াতে সমস্যায় পড়ত। ঘাটটি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এখন তাদের চলাচল সহজ হয়েছে।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, নামমাত্র রাজস্বের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ঘাটটি ইজারা দিত। কিন্তু এর কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও দূরদূরান্তের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তাদের কষ্ট কমাতেই তিনি নিজের অর্থায়নে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করেছেন। সেতুটি মেরামত ও দেখভালের জন্য একজন লোক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কেউ উদ্যোগ নিলে তা প্রশংসনীয়। তবে ঘাট ও সেতুসংক্রান্ত কাজ নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা প্রয়োজন। প্রশাসন সব সময় স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
