মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আজ সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেন তিনি।
অথচ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর একের পর এক ফেসবুক পোস্ট দিয়ে সংবাদটিকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক। তার প্রেস কর্মকর্তাও সংবাদটিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
সকাল ৯টা ৮ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া গ্রুপে দেওয়া এক অডিও বার্তায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বেলা ২টায় প্রেসক্লাবে একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে আমার যে চূড়ান্ত ঘোষণাটি, যেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কনভে করেছেন, সেটি আমরা ঘোষণা দেব।’
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাত ১০টার দিকে বিভিন্ন গণ্যমাধমে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর রাত ১০টা ২২ মিনিটে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপে ইশরাক লেখেন, ‘পদত্যাগের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এর ৪ মিনিট পর রাত ১০টা ২৬ মিনিটে একই গ্রুপে অডিও বার্তা দেন তিনি। সেখানে ইশরাক বলেন, ‘দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত যদি দল থেকে আমরা নেই, তাহলে সেটি অবশ্যই উড়োখবরের মাধ্যমে আসবে না।’
এর ২ মিনিট পর, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে, ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংবাদটির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিটি ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে আরও একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সঠিক নয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও বার্তায় দাবি করা হয়।
রাত ১০টা ৪০ মিনিটে আবারও হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অডিও বার্তা দেন ইশরাক হোসেন। সেখানেও তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।
এ সময় গ্রুপে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাকে ভিডিও বার্তা দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর জবাবে রাত ১০টা ৫১ মিনিটে তার প্রেস কর্মকর্তা লেখেন, ‘দু-একটি গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতার ঘটনায় তিনি ভিডিও বার্তা দিয়ে বক্তব্য প্রদানকে গুরুত্ব মনে করেন না।’ এ বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন হলে সরাসরি খোলামেলা কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনেও (বিটিভি) তা স্ক্রল আকারে প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় বিটিভির সমালোচনা করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আরেকটি বার্তা দেন ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তা।
ওই বার্তায় বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা ছাড়াই মন্ত্রিসভার একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মতো স্পর্শকাতর খবর স্ক্রলে প্রচার করে বিটিভি গুরুতর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে, যা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থি। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের পর নীরব থাকা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমটির পেশাদারত্বকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
কিছুক্ষণ পর বিটিভি আগের স্ক্রল বন্ধ করে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের খবর অস্বীকার করছেন এমন স্ক্রল দিতে থাকে।
