যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং চাকরিচ্যুত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কংগ্রেস সাংসদ অংগোমচা বিমল আকোইজামকে রক্ষা করার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মণিপুরের এই সাংসদ গত সপ্তাহে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে জেএনইউ থেকে চাকরিচ্যুত হন। তবে ওই আইনপ্রণেতা নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিজেপি নেতারা আকোইজাম এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে মার্কস ফর সেক্স বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মতো স্লোগান লেখা ছিল।
বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধীর এই বধিরতার মতো নীরবতার অর্থ কী? কংগ্রেসের এই ক্ষমতাসীন সাংসদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
আরেক বিজেপি সাংসদ তরুণ চুগ অভিযোগ করেন, আকোইজাম কংগ্রেস নেতাদের কোলে বসে আছেন। ১১ জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেছে এমন একজন ব্যক্তিকে কংগ্রেস কেন আড়াল করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
২০২৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দলটির মুখপাত্র রাধিকা খেরা বলেন, ‘কংগ্রেস দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখতে পারে না। রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই এই বিষয়ে মুখ খুলতে হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জেএনইউর স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের সোশ্যাল সিস্টেম স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক অংগোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ডেটিং ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে অন্তত ১১ জন ছাত্রী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি মিটিং বা একত্রিত হওয়ার অজুহাতে ছাত্রীদের ক্যাম্পাসের বাসভবনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। এছাড়া ক্লাসেও তিনি আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের কাছে জানতে চাইতেন ‘তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে? বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কী কী করো? পরকীয়া বা অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে তোমার মতামত কী? আমার বয়সি কেউ তোমার বয়সি কাউকে পছন্দ করলে সে বিষয়ে তোমার কী মত?’
এমনকি ‘কুইকি’ শব্দের অর্থ জানতে চেয়ে তিনি হাত নেড়ে অত্যন্ত অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে তার ব্যাখ্যাও দিতেন।
জেএনইউর অভ্যন্তরীণ কমিটি এক বিস্তৃত তদন্তের পর ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, অবাঞ্ছিত শারীরিক সংস্পর্শ, অপ্রয়োজনীয় সান্নিধ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পেশাদার মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের সত্যতা পায়।
এদিকে নিজের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি উইচ হান্ট বা প্রতিপক্ষকে দমনের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাংসদ আকোইজাম।
গত ৯ অক্টোবর তিনি দাবি করেন, তদন্ত কমিটির কোনো রিপোর্ট বা বরখাস্তের চিঠি তিনি পাননি। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন সঠিকভাবে মানা হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।’
নম্বরের বিনিময়ে যৌনতা বা অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘কারও সাহস থাকলে রিপোর্ট বা অন্য কোথাও এমন প্রমাণ দেখিয়ে দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মণিপুরের জনগণকে কেউ স্তব্ধ করতে পারবে না। জনগণ আমাকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমি তাদেরই কণ্ঠস্বর।’
এদিকে সোমবারই দিল্লির পুলিশ এই কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যৌন নিপীড়ন এবং নারীর শালীনতাহানির মামলা করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
