শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব। এ উৎসব শুধু আনন্দের নয়, নারী শক্তির জাগরণ ও অশুভ শক্তি বিনাশের পথিকৃৎ। এ ভাবনাকেই ধারণ করে নগরের এনায়েত বাজার গোয়ালপাড়া এলাকায় টানা ২০ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন করছে মহিলা সংঘ পূজা উদযাপন পরিষদ। পূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই করে থাকেন নারীরা। এলাকায় এ পূজা নারীদের পূজা নামেই পরিচিত পেয়েছে।
আয়োজকরা জানান, একই এলাকায় আরও অন্তত ৫টি পূজা হয়। নারীদের পূজায় এলাকার সবাই সহযোগিতা করে থাকেন। সদস্য চাঁদা, সরকারি অনুদান সব মিলিয়ে এ পূজার আয়োজন করা হয়। তবে পূজার বাজেটও সীমিত। গতবারের মত এবারও সিসি ক্যামেরা লাগাতো সহযোগিতা করেছে প্রশাসন। পূজা শেষে বিসর্জন দেয়া হয় মণ্ডপের পাশের পুকুরেই। তবে যে জায়গায় পূজার আয়োজন করা হয় সেটি অস্থায়ী মণ্ডপ। স্থায়ী মণ্ডপ করতে সরকারসহ সকলের সহযোগিতা চান তারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের এনায়েতবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল গলি হয়ে ঢুকে অল্প কিছুদূর ভেতরে মহিলা সংঘের মণ্ডপের অবস্থান। জায়গা খুব বেশি বড় নয়। স্বল্প জায়গায় পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। নিরাপত্তায় মণ্ডপের বাইরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বসে আছেন। মণ্ডপের ভেতরে ও বাইরে চোখে পড়েছে সিসি ক্যামেরা। জায়গাটি সিটি করপোরেশনের বলে জানা গেছে।
মহিলা সংঘ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে ওই জায়গায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ পূজার প্রথম উদ্যোগ নেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গীতা রুদ্র। তার কথার শুরুতে এগিয়ে আসেন বর্তমান সভাপতি মিনা চৌধুরী।
এরপর তাদের সঙ্গে এলাকার আরও অনেক নারী যোগ দেন। পূজার শুরু থেকে তারা দুজন এখনও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শুরুতে ৩০ জনের গ্রুপ থাকলেও এখন সদস্য সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কিন্তু এরপরও পূজার আয়োজনে আজও বিঘ্ন ঘটেনি। প্রতিবছর আয়োজন করা হচ্ছে পূজার। বর্তমানে বয়সের ভার ও বাধ্যক্যজনিত ব্যাধিতে ক্লান্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই। এরপরও তাদের মনোবলের কমতি নেই।
এ বিষয়ে নারী সংঘ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সত্তরোর্ধ মীনা চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক গীতা রুদ্রের কথায় অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, যদি পুরুষরা মিলে পূজার আয়োজন করতে পারে, তাহলে নারীরা কেন পারবে না। তার ওই কথা থেকে ৩০ জন নারী মিলে ২০০৬ সাল থেকে পূজা আয়োজন শুরু করি। তবে বর্তমান সময়ে সদস্য সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু পূজা আয়োজনে এর প্রভাব পড়েনি। আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি পূজা হলেও আমাদের পূজায় সবার নজর থাকে আলাদা। এছাড়া এলাকার সবাই মিলে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেয় প্রতিবছর। সীমিত বাজেটেই পূজার আয়োজন করে থাকি আমরা। বিসর্জনও দেয়া হয় পাশের পুকুরে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে মণ্ডপে পূজার আয়োজন করে আসছি সেটি অস্থায়ী মণ্ডপ। জায়গা সিটি করপোরেশনের। প্রতিবছর অনুমতিক্রমেই আমরা সেখানে পূজার আয়োজন করে আসছি। আমাদের স্থায়ী মণ্ডপ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। কাজেই সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে হয়ত আমরা একটি স্থায়ী মণ্ডপ করতে পারব এবং প্রতিবছর পূজার আয়োজন করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পূজার নিরাপত্তায় থানা পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের মণ্ডপ পরিদর্শন করতে আসেন। নারীদের পূজা বললে সবাই অবাক হয়ে যান। গোয়ালপাড়া এলাকায় নারীর পূজা নামে পরিচিত হয়ে গেছে। এখানে এসে যে কাউকেই বললেই মণ্ডপ দেখিয়ে দেবে। আমরা চাই আমাদের দেখাদেখি অন্য নারীরা পূজা আয়োজনে এগিয়ে আসুক। দেবী দুর্গার পূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি নারীর সম্মান আর সমমর্যাদার অধিকারও।’
বিবেকের অন্ধকার দূর করে দেবী দুর্গা জাগিয়ে তুলবে শান্তি ও সৌহার্দে্যর আলো এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সুপ্রভাত/আরবি
The post ২০ বছর ধরে নারীদের আয়োজনে দুর্গাপূজা appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
