নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আশঙ্কা ছিলই, আর সেটাই সত্যি হল। ফের একবার বাতিল হয়ে গেল বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকার কারণেই এই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পুলিশের অভাবটা একটা অজুহাত মাত্র। আসল কারণ হল শাসকদলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নতুন সভাধিপতির নাম নিয়ে নেতারা এখনও একমত হতে না পারা।
ফায়জুল হক (কাজল শেখ) ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। প্রথমে ঠিক ছিল গত ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন নির্বাচন হবে। কিন্তু সেবারেও নির্বাচনের ঠিক আগের দিন পুলিশের অভাব দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়। এরপর দীর্ঘ টালবাহানার পর নতুন দিন ঠিক হয় বুধবার ১৪ অক্টোবর। কিন্তু তার আগেই নোটিশ জারি করে ফের তা স্থগিত করে দিলেন জেলা শাসক ধবল জৈন। জেলা শাসক জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার রিপোর্ট দিয়েছেন যে ওইদিন পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আগামী ১৪ তারিখের নির্বাচন স্থগিত করা হচ্ছে এবং নতুন দিনক্ষণ পরে জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রথম থেকেই অবশ্য সন্দেহ করছিলেন, এই নির্বাচন হবে না। তাঁদের মতে, আগের নির্বাচন বাতিল হওয়ার পর স্রেফ আইনি নিয়ম রক্ষার জন্যই ১৪ তারিখের দিনটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আসল কারণ শাসকদলের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। পরবর্তী সভাধিপতি কে হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। একাধিক গোষ্ঠীর পছন্দের প্রার্থীর নাম আলাদা। যেমন, বিজেপির সিউড়ির প্রভাবশালী গোষ্ঠী চাইছে নবগোপাল বাউরিকে এই পদে বসাতে। অন্যদিকে দলের অন্য একটি গোষ্ঠীর দাবি, কোনও মহিলা সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা আবার চাইছেন অন্য কাউকে।
এই টানাটানির জেরে দল এখনও কারও নামে চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে পারেনি। এমনকি ১৪ তারিখ নির্বাচনের নোটিশ পেয়ে অবাক হয়েছিলেন খোদ নবগোপাল বাউরিও। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে কালীপুজোর পর নির্বাচন হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। ফলে দলের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতেই পুলিশ ফোর্সের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে সুকৌশলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হল বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও দলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন পিছনোর বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কোনও সম্পর্ক নেই।
