আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের মরশুমে মুম্বইয়ে লাগামছাড়া বায়ুদূষণ। এবার সেই নিয়েই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল বম্বে হাইকোর্ট। সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর হওয়া সত্ত্বেও মুম্বইয়ের দূষণের মাত্রা দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে আদালত। পাশাপাশি, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনামায় শহরে আতসবাজি পোড়ানো নিয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের সময়ে বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC), মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (MPCB) এবং পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট।
বম্বে হাইকোর্টের তরফে শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং ফুটপাতে বাজি ফাটানোর উপর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, সরকারি অফিস, আদালত এবং স্কুল চত্বরের মতো সমস্ত 'সাইলেন্স জোন' বা নীরব এলাকায় বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ চিহ্নিত করা হয়েছে। বিএমসি কমিশনার এবং মুম্বই পুলিশ কমিশনারকে কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে করার বিবরণীর হলফনামা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
কোর্টের তরফে এও জানানো হয়েছে, যাঁরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সে জন্য একটি আদর্শ নির্দেশিকা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত এই নির্দেশ সমস্ত থানায় পৌঁছে দিতে পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করার নির্দেশও দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশ আরও জানানো হয়েছে, শোভাযাত্রায় সাউন্ড সিস্টেম বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশের থেকে পূর্ব অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পুলিশ প্রদত্ত অনুমতিপত্রও স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।
হাইকোর্টে বিচারপতি গিরিশ এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোখলের বেঞ্চ জানিয়েছে, মুম্বইয়ে প্রাকৃতিক সামুদ্রিক হাওয়া ও খোলামেলা পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শহরের লাখ লাখ মানুষ যেখানে দূষণের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন, সেখানে প্রশাসনের কর্তারা কীভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিএমসি এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড পর্যাপ্ত প্রচার চালায়নি বলেও তাদের ভর্ৎসনা করা হয়।
