ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই নৌপথে দুটি বড় জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় আকস্মিক হামলার শিকার হয়ে ডুবে গেছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বিশালাকার কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ ‘কেপ ডাও’। এর মধ্যে জিএফএস প্রাইড জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত, ওই জাহাজে থাকা ২১ জন নাবিককে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, কেপ ডাও জাহাজে চালানো হামলায় অন্তত একজন নাবিক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়া গেছে।
এদিকে জিএফএস প্রাইড জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, জাহাজটি কোনো ধরনের হামলার শিকার হয়নি; বরং ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ রুট দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সেটি সমুদ্রের নিচে আগে থেকে পেতে রাখা কোনো মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সাগরে ডুবে যায়। তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এই দাবি অস্বীকার করে জাহাজটিতে প্রত্যক্ষ হামলা বা অজ্ঞাত অস্ত্রের আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। ফলে ঠিক কী কারণে জাহাজটি ডুবেছে, তা এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ কোনো সূত্র দিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জলযানের ওপর হামলার ধরন, কৌশল এবং ঘনত্বের ভেতর বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির বুক দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করা এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের তরফ থেকে নানামুখী প্রচেষ্টা ও তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উৎকণ্ঠা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
