মোকাররম উল আজাদ
আমি একুশ দেখিনি
জুলাই দেখেছি -----
বিক্ষোপে ফেটে পড়া
তারুণ্যের ঢল।
৫২ এর রক্তাক্ত ইতিহাস
নব্য প্রজন্মের
সাহসী মন্ত্র ।
আমি ঊনসত্তর দেখিনি
জুলাই দেখেছি ;
দেখেছি, বিপ্লবী জনতার
বিশাল মিছিল।
ছাত্র জনতার দ্বিধাহীন ঐক্য
কাঁধে কাঁধে রেখে
হাতে হাত জোড়া ;
রাজপথ দখলের চিত্র।
আমি ৭১ দেখিনি
জুলাই দেখেছি ,
দেখেছি সাহসী ছাত্রের
আপসহীন সংগ্রাম।
মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি,
ওটা আজও কিংবদন্তি। কিন্তু, আমি আজ জুলাইয়ের
রাজ সাক্ষী।
আমি দেখেছি জনতার বিদ্রোহ
,দেখেছি খুনি সরকারের
নির্লজ্জ ক্ষমতা দখলের নিষ্ঠুরতা।
আমি দেখেছি
রাইফেল, রিবালভার,
জল কামান, কাঁদানো গ্যাস--------
টিয়ারসেল।
নিরস্ত্র ,নিরীহ ছাত্রের উপর,
নির্মম গুলিবর্ষণ।
শাহবাগ থেকে পান্থপথ,
রাজু ভাস্কর্য সে তো ------
বৈষম্য বিরোধীদের
আতুর ঘর।
ঢাকা মেডিকেল থেকে নীলক্ষেত ,রামপুরা উত্তরা
দমন পীড়নের বধ্যভূমি।
ঢাকা কলেজ, আজিমপুর
প্রেসক্লাব থেকে ---------
জিরো পয়েন্ট সর্বত্রই
পথে প্রান্তরে লাশ,
লাশ আর লাশ ---------
রক্তাক্ত লাশের মিছিল।
জগন্নাথ থেকে জাহাঙ্গীরনগর, নর্দান ,ব্রাক এশিয়ান;
রংপুর থেকে রাজশাহী সহ সারাদেশ,
সব বিশ্ববিদ্যালয় ।
প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক,
স্কুল, কলেজ; মাদ্রাসা থেকে
বেরিয়ে আসা ঝাঁকে ঝাঁকে--- ছাত্র-জনতা।
এ এক অভুত্থান।
ফ্যাসিস্ট সরকারের বিতাড়নের অভ্যুত্থান।
সবার হাতে লাঠি ,
মাথায় বেধেছে পতাকা ,
মাথায় টুপি, পাঞ্জাবি------ শার্ট-প্যান্ট, বিচিত্র শোভাযাত্রা বৈষম্যহীন ভ্রাতৃত্বের মিছিল।
কঁচি মুখের রাগাত ,
রক্তাক্ত লাল চোখ,
তুলতুলে পায়ের গোড়ালি ,
উত্তপ্ত পিচের ঘর্ষণে
ফোসকা পড়া পা;
রক্তাক্ত পায়ের ছাপ----
তবুও ভ্রুক্ষেপে হীন
পদযাত্রা।
কি অসীম সাহস,
সাহসী দৃষ্টি
আমি দেখেছি ,
মরণ যুদ্ধের
লড়াকু সৈনিক।
সামনে পুলিশের পেটুয়া বাহিনী ,ভাড়াটে গুন্ডা,
আর এক শ্রেণীর
শিক্ষিত সন্ত্রাসী ।
বুলেটের সামনে বুক পেতে
দাঁড়ানো আবু সাঈদ;
মূর্হুর্মূহ গুলি, গুলি আর গুলি
আহাতো ছাত্রদের
আত্মচিৎকার।
না, এসব গল্প নয়
আমার নিজের চোখে দেখা জুলাইয়ের রণক্ষেত্র।
রাস্তায় পড়ে থাকা
মুগ্ধ মুগ্ধের লাশ ,
রিকশায় ঝুলে থাকা নাফিস; নাফিসের নিথর দেহ,
ঘুমিয়ে থাকা শিশুর ------
গুলিবিদ্ধ লাশ ।
না , এ সব ৭১ নয়
এসব কিছুই জুলাই-----
জুলাইয়ের জ্বলজ্বলে
ইতিহাস।
মোকাররম উল আজাদ
গোলাপী কটেজ, পাইকগাছা, খুলনা
