
বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা: | বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫০
ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের লামা উপজেলার হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও সুলভ করতে এক নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছে। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত ইকো-কার্ডিওগ্রাফি (Echocardiogram) সেবা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এ সেবার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ড. গোলাম মোস্তফা নাদিম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন এবং লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. সোলাইমান।
এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, সেবাটি চালু করতে সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায় থেকেই অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ, সাবেক ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. গোলাম মোস্তফা নাদিমের ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ প্রযুক্তিগত সুবিধাটি যুক্ত হলো।
এতদিন লামা, বমুবিলছড়ি ও পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার হৃদরোগীদের সামান্য ইকো-কার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা করানোর জন্যও বান্দরবান জেলা সদরে অথবা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো বড় শহরে যেতে হতো। এতে রোগীদের যেমন সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি পোহাতে হতো, তেমনি গুনতে হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় রোগীরা এখন নিজ এলাকাতেই অত্যন্ত কম খরচে দ্রুত হৃদরোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. নাদিম জানান, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন অ্যাম্বুলেন্সসহ ভবিষ্যতে এলাকার প্রান্তিক জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ছোটফরিংগা সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামগড় (খাগড়াছড়ি): | বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৩

ছবি সংগৃহীত।
সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ছোটফরিংগা সীমান্ত এলাকা থেকে এসব শাড়ি জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রামগড় ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল মীরসরাই উপজেলার ছোটফরিংগা বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০৩/২-আরবি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াটিলা মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়।
এ সময় পাহাড়ি এলাকার উঁচু-নিচু স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক সিজার মূল্য ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা ও সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।
লামায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী, খোঁজ মেলেনি ৩ দিনেও

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: | বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৪

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মুখ এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো— লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া সুলতানা ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি আক্তার একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১১ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
পরিবারের দাবি, রেশমি আক্তার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই তাঁর বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা কাগজপত্র নিতে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ তিন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। কিশোরীদের চকরিয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সন্তানদের কোনো বিপদ হয়েছে কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত তাদের সন্ধান বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, গত মাসের শেষ দিক থেকে ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্ঘাটন ও উদ্ধার অভিযানে পুলিশ কাজ করছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একশত পরিবারের মাঝে লামায় উপহারসামগ্রী বিতরণ

বেলাল আহমদ, লামা: | বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০০

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের লামায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সনাতন সম্প্রদায়ের একশত পরিবারের মাঝে বস্ত্র ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) লামা রিপোর্টার্স ক্লাব হলরুমে এই উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একশত সনাতন ধর্মাবলম্বীর হাতে শুভেচ্ছা উপহার (শাড়ি ও ফতুয়া) তুলে দেন লামা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও পৌরসভা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান দাশ। আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এস কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির গীতা শিক্ষা নিকেতন পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সদস্য বিপ্লব দাস, চুমকি বণিক, মিন্টু কর্মকার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সকল ধর্মাবলম্বীর সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানান।
উপহারসামগ্রী বিতরণ শেষে আগামী লামা পৌরসভা নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও পৌরসভা যুবদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও লামা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পূর্বেও আপনাদের পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করে যাব।”
