বার্সার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রিয়াল বেতিসের মিডফিল্ডার । স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) ডিসিপ্লিনারি কমিটি ঘটনাটিকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে এই শাস্তি দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার বেতিস ও বার্সেলোনার ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর বার্নালের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফেরমিন লোপেসকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন ইয়ামাল। তবে এরপরই তার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন বেতিসের মিডফিল্ডার বার্নাল। একপর্যায়ে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন তিনি। এ ঘটনায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
রেফারি রিকার্দো দে বুর্গোস বেনিগোইচিয়ার ম্যাচ রিপোর্ট এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১০৩ নম্বর ধারার ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ধারায় প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার শাস্তির বিধান রয়েছে, এমনকি আঘাতের কারণে গুরুতর চোট না লাগলেও।
রেফারির প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে বার্নাল ক্রুসকে মাঠ ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। বল খেলার বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি প্রতিপক্ষের ঘাড়ে হাত রাখেন এবং পরপর দুবার মাথা দিয়ে মুখে আঘাত করেন।
শৃঙ্খলাবিধির ১০৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে চার থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। বল খেলার বাইরে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি ঘটায় বিষয়টিকে সাধারণ কথাকাটাকাটি হিসেবে বিবেচনা করেনি ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বরং শারীরিক আক্রমণের ঘটনা হিসেবেই মূল্যায়ন করে বার্নালকে সর্বনিম্ন চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফেরমিন লোপেস মাঠে পড়ে গেলে তাকে উঠতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। সতীর্থের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে যান ইয়ামালও। এরপরই তার সঙ্গে বার্নালের তর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে বার্নাল ইয়ামালকে শক্ত করে ধরে ফেলেন। পরে দুজনের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন বেতিসের এই মিডফিল্ডার। পরিস্থিতি দেখে সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় রিয়াল বেতিসকে।
এই ঘটনার পর ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিষয়টিকে নিছক খেলোয়াড়দের উত্তেজনা বা বাকবিতণ্ডা হিসেবে দেখেনি।
