ঘুমের মান উন্নত করা থেকে শুরু করে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা পর্যন্ত নানা উপকারের কারণে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট এখন অনেকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিঃসন্দেহে, ম্যাগনেসিয়াম শরীরে শক্তি উৎপাদন, পেশির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সারা বছর সবারই যে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে, এমন নয়। সাধারণত সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ হলেও, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই শরীরের প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়াম পেতে পারেন।
ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সত্যিই কি আপনার প্রয়োজন?
গুরগাঁওয়ের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ও ইউনিট প্রধান ডা. সতীশ কৌল বলেন, সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়লেও, সারা বছর ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করা সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক সুষম খাদ্য থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে এই অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান পেতে পারেন।
ডা. কৌল আরও বলেন, ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ, বিশেষ করে কাঠবাদাম, কুমড়ার বীজ ও কাজুবাদাম। এ ছাড়া পূর্ণ শস্য, ডাল, বিনস, সবুজ শাকসবজি এবং ডার্ক চকলেটেও ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাবারে নিয়মিত এসব খাবার রাখলে শরীরের দৈনিক ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা পূরণে অনেকটাই সহায়তা পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াকেই সব সময় প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
কখন ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথা ভাববেন?
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি নির্ণয় করা হয়েছে, যাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এবং যেসব রোগের কারণে পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা সৃষ্টি হয়, তাদের ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি, নির্দিষ্ট কিছু কিডনি বা বিপাকীয় সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বিশেষ কিছু ওষুধ গ্রহণকারীদেরও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে যেসব সতর্কতা মানবেন
* যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে, আপনার আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
* সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথা ভাবার আগে খাবারের মাধ্যমে ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করুন।
* ক্লান্তি বা পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি ধরে না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
* চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দিলে তার নির্দেশিত মাত্রা মেনে চলুন।
* অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণের ফলে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।
ডা. কৌল সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া হতে পারে। যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কম, তাদের শরীরে বিপজ্জনক মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম জমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই সবারই প্রতিদিন ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত—এমন ধারণা বা প্রচলিত প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি