কালীগঞ্জে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার। তৃণমূল আমলে সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূলের লোকজন ওই ‘খুনে’ অভিযুক্ত হলেও পুলিশ-প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোর গলায় জানিয়েছিলেন, বিচার পাবে ছোট্ট তামান্না। এরপরই পুলিশ-প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। এবার কৃষ্ণনগর আদালতে ওই মামলার শুরু হল সাক্ষ্যগ্রহণ।
এদিন আদালতে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত এক টেকনিক্যাল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রধান জবানবন্দি নেওয়া হয়। এদিন ২৪ জন অভিযুক্তকেই আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আইনজীবীদের কিছু সমস্যার কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি। বাকি অংশ আগামী কাল মঙ্গলবার হবে। এমনই জানিয়েছেন মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, এই মামলায় প্রযুক্তিগত প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই টেকনিক্যাল সাক্ষীর মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রথমে পলাতক ছিল। পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মামলায় চার্জ গঠন হয়। প্রসিকিউশনের তরফে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনও দেরি করা হয়নি। সেই কথাও জানিয়েছেন আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ওই আসনে জয়ী হয়েছিল। ওই দিন তৃণমূলের তরফে বিজয় মিছিল হয়েছিল। অভিযোগ, মোলান্দি গ্রামে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তামান্নার। সেই ঘটনায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রথমে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই অভিযোগ মৃতার মায়ের তরফে করা হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চলতি বছর ২২ জুলাই অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এবার শুরু হল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ।
