Published on
:
2 min read
এই সময়, হাওড়া: আরজি কর কাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে দু’বছর। সেই মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এক সময় উত্তাল হয়ে উঠেছিল তিলোত্তমা কলকাতা। তার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। অভয়ার খুন ও ধর্ষণের বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তারপর গঙ্গায় দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু বিচার পাওয়ার আশা অপূর্ণই থেকে গিয়েছে। পুজোর ঠিক আগেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুুপার সন্দীপ ঘোষ। তা নিয়ে সরব হয়েছেন অভয়ার বাড়ির লোকেরা। এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছেন চিকিৎসকরাও। এই প্রেক্ষাপটে অভয়ার স্মৃতিকে আবার নতুন করে উস্কে দিল মধ্য হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের জনতা কল্যাণ সঙ্ঘ। ৫৫–তম বর্ষে এ বার তাদের পুজোর থিম ‘অভয়া’।
২০২৪ সালের অগস্টে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই নৃশংস নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে। অভয়ার বিচার চেয়ে দেশের অন্যত্রও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বিদেশের মাটিতেও প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন অনেকে। অভয়ার খুন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে রাতজাগো আন্দোলেন শামিল হয়েছিলেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। সেই আন্দোলনের টুকরো টুকরো স্মৃতি এবং বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণাকে অতি সুন্দর ভাবে এ বার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে উপস্থাপন করেছে জনতা কল্যাণ সঙ্ঘ। মণ্ডপের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে প্রতিবাদের নানা প্রতীক। অভয়ার প্রতীকী মূর্তি ও ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা মণ্ডপকে। মণ্ডপের দেওয়াল জুড়ে চোখে পড়বে হাতে মোমবাতি নিয়ে আন্দোলনরত প্রতিবাদী মানুষদের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। অভয়ার খুনিদের কঠোর শাস্তির দাবিকে তুলে ধরতে মণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে দড়ির ফাঁস ও ঝুলন্ত খড়ের মূর্তি। তাতে একটাই বার্তা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা, সেটা হলো অভয়ার মৃত্যুর বিচার চাই। নাগরিক আন্দোলনের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে মণ্ডপে রাখা হয়েছে উল্টে যাওয়া চেয়ার। সব মিলিয়ে পুজোমণ্ডপটি শুধুমাত্র শিল্পের প্রকাশ নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পুজোর আয়োজকরা।
পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা অজয় গুপ্তা বলেন, ‘আমরা চাই, অভয়ার খুনের প্রকৃত বিচার হোক। সমাজের বুকে যাতে আর এই ধরনের নৃশংস ঘটনা না ঘটে। তার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বাকিটা বিচার করবে আদালত।’
উৎসবের আবহে যখন আলো, সাজসজ্জা ও আনন্দে মেতে উঠেছে শহর থেকে গোটা গ্রাম বাংলা, তখন জনতা কল্যাণ সঙ্ঘের এই মণ্ডপ মনে করিয়ে দিচ্ছে এক গভীর সামাজিক ক্ষতকে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, উৎসব ও আনন্দের আবহে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবি যেন কখনও হারিয়ে না যায়।
