ফ্রান্সজুড়ে শত শত সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তাজা ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে। গত ১১ ও ১২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে চালানো এ হামলায় ইন্টারনেট-সংযুক্ত ফ্রিজ ও হিমায়ন যন্ত্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের ইন্টারমার্শে গ্রুপের প্রায় ১৫০টি দোকান এ হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্যারেফুরের ৮০টি সুপারমার্কেট এবং মোনোপ্রির প্রায় ৫ শতাংশ শাখা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এএফপির প্রতিবেদনে ইন্টারমার্শের ১৫০ থেকে ২০০টি এবং কো-অপারেটিভ ইউর প্রায় ১০০টি বিক্রয়কেন্দ্র আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যার পার্থক্য থাকায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ইন্টারমার্শে, নেট্টো, কো-অপারেটিভ ইউ, ক্যারেফুর, মোনোপ্রি ও ই. লেক্লেরের নাম এসেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত শাখার সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত কয়েকটি সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও হিমায়ন যন্ত্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হ্যাকাররা দূর থেকে শীতলীকরণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডিফ্রস্ট বা বরফ গলানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় করেছিল। এতে খাদ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত দোকানগুলোকে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পণ্য ফেলে দিতে হয়েছে। তবে দেশজুড়ে মোট কত পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার সঙ্গে ডেনমার্কের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যানফসের তৈরি শীতলীকরণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পুরোনো সফটওয়্যারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা দুর্বলতার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আক্রান্ত কিছু যন্ত্রে পুরোনো ফার্মওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার কোনো কোনো সংস্করণ নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ পায় না। তবে হামলাকারীরা ঠিক কীভাবে এসব ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এ ঘটনায় প্যারিসের প্রসিকিউটর দপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর নির্দেশে ফ্রান্সের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএসআইও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। হামলার উৎস, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং অন্য দেশেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। মুক্তিপণ দাবিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার উদ্দেশ্য নাশকতা, আর্থিক লাভ নাকি অন্য কিছু—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দেশজুড়ে আর্থিক ক্ষতি কয়েক কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি প্রাথমিক মূল্যায়ন; ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের নিরাপত্তায় দুর্বলতা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ, দূর থেকে যন্ত্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
তদন্ত শেষ হলে হামলার প্রকৃত পদ্ধতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং দায়ীদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
The post ফ্রান্সে শত শত সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা, তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে—নষ্ট বিপুল খাদ্যপণ্য appeared first on ভোরের চেতনা.
