স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (বাঁ দিকে) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)ছবি: X
Published on
:
2 min read
SIR-কে সামনে রেখে ভোট চুরির অভিযোগে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেই নিয়ে বিরোধীদের মিছিল-বিক্ষোভে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত দিল্লি। দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই আবহে মঙ্গলবার মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘SIR-কে দোষ দিচ্ছেন কেন? আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকেই কংগ্রেস হারছে।’
এ দিন গুজরাটের গান্ধীনগর পুরসভার ফলপ্রকাশ করেছে কমিশন। ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জিতেছে বিজেপি। ৫টি আসন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। একটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। তার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসকে একযোগে তুলোধনা করে অমিত শাহ বলেন, ‘এটা SIR-এর ফল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তাকে আপনারা SIR-এর ফল বলে খাটো করছেন।’
রাহুলের আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ। তিনি সরাসরি বলেন, ‘যে রাজ্যে (গুজরাট) এক সময়ে আপনারা দীর্ঘ কয়েক দশক ক্ষমতায় ছিলেন, সেখানে গত ৪১ বছরে কোনও নির্বাচনে জিততে পারেনি আপনারা।’ এর পরেই SIR প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। শাহ বলেন, ‘SIR তো ২০২৪-এ শুরু হয়েছে। কিন্তু আত্মসমীক্ষা করে দেখুন, আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কংগ্রেস হারতে শুরু করেছে।’ উল্লেখ্য, গুজরাটে কংগ্রেস শেষ বার নির্বাচনে জিতেছিল ১৯৮৫ সালে।
অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির সাম্প্রতিক উপনির্বাচন এবং রাজস্থান ও ত্রিপুরার পুরভোটের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। শাহের দাবি, শুধু ভোটার তালিকা বা ইভিএমকে দায়ী করে কংগ্রেসের ধারাবাহিক নির্বাচনী ব্যর্থতার উত্তর মিলবে না। তাঁর কথায়, ‘নাটক করে আর ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না।’ ত্রিপুরার ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (TTAADC) অধীন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছিল। শাহের কথায়, ‘সেখানেও বিজেপি জিতেছে।’
২০২৯-এর লোকসভা ভোটেও কংগ্রেসকে হারতে হবে বলে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘রাহুল গান্ধী ও তাঁর বন্ধুদের বলতে চাই, ২০২৯-এ হারের জন্য প্রস্তুত থাকুন। NDA বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতবে। আর টানা চতুর্থ বারের জন্য কংগ্রেস হারবে।’ দিল্লিতে বিরোধী নেতা-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ করলেও গোটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা রাহুল গান্ধীর নেই বলেও মন্তব্য করেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘মানুষের সঙ্গে আপনাদের কোনও যোগাযোগ নেই। সেখানে পৌঁছনোর ইচ্ছাও নেই।’ রাহুল গান্ধী আসলে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
