
ছবি: সংগৃহীত
প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ক্ষিপ্রগতির টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাতে দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে স্থবির ও অচল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ঝড়ের আশঙ্কায় পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে অঞ্চলটির সিংহভাগ দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সমুদ্র অতিক্রম করার সময় নজিরবিহীন গতি অর্জন করে ঝড়টি অল্প সময়ের জন্য তাণ্ডবীয় সুপার টাইফুনে পরিণত হয়, যার প্রভাবে সমুদ্রের প্রকাণ্ড উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে তাইওয়ানে ইতোমধ্যে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট নজিরবিহীন উষ্ণতার কারণে এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় উৎপন্ন হচ্ছে, যার সর্বশেষ সংযোজন এই টাইফুন চাম্পি। বর্তমানে এটি ঘণ্টায় ১৭৬ কিলোমিটার গতিবেগে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে চীন ও জাপানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় হাজার হাজার সেনাসদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের কয়েকশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পুরো উত্তর ও উত্তর-পূর্ব তাইওয়ানের রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
এদিকে টাইফুন চাম্পির এই আকস্মিক তাণ্ডবের মাঝেই জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে চরম সতর্কবার্তা জারি করেছে। বৈশ্বিক সংস্থাটি জানিয়েছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি আবহাওয়া চক্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার ফলে আগামী মাসগুলোতে খরা, ভয়াবহ বন্যা ও রেকর্ড বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ও ভয়াবহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর মানবিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাসীকে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ।
