মিল্টন সেন,হুগলি: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ ও প্রশাসন। বিজয়া দশমীতে চুঁচুড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে বুধবার দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন। রাত পর্যন্ত চলে নিরঞ্জন পর্ব। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাটগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় যাতে ভিড়ের কারণে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে জেলা পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। প্রতিমা নিরঞ্জন পর্বের দিকে করা নজর রেখেছিলেন পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব, জেলাশাসক খুরশীদ আলী কাদরি সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। চুঁচুড়া অন্নপূর্ণা ঘাটে উপস্থিত ছিলেন ডিসি চন্দননগর ডাঃ এলেন জর্জ, আইসি চুঁচুড়া উত্তম শর্মা প্রমুখ।
মোতায়েন করা হয়েছে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের উপস্থিত ছিলেন পুরসভার কর্মীরা। প্রতিমা নিরঞ্জনের সঙ্গে সঙ্গেই পুর কর্মীদের উদ্যোগে কাঠামো তুলে আনা হচ্ছিল গোঙ্গা থেকে। পাশাপাশি গঙ্গার প্রত্যেকটি ঘাটেই প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য নির্ধারিত জায়গা নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কাঠামো বা অন্যান্য সামগ্রী গঙ্গায় ভেসে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।
সদর মহকুমা শাসক অভিজিৎ সাহা জানান, অন্নপূর্ণা ঘাট, ময়ূরপঙ্খী ঘাট, চুনিমিয়া ঘাট ও জোড়াঘাট-সহ বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগেই ঘাটগুলি পরিদর্শন করা হয়েছিল। যে ঘাটগুলিতে বেশি সংখ্যক প্রতিমা নিরঞ্জন হয়, সেখানে সমস্ত ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুরসভার কর্মী রাখা হয়েছে,যাতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর কাঠামো গঙ্গা থেকে তুলে নেওয়া হয়। রাতের জন্য পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব চলবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত। প্রতিমা বিসর্জন দিতে এসে বিশ্বনাথ বেলেল বলেন এবারে ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি, সকাল থেকে শৃঙ্খলা বদ্ধ ভাবে বিসর্জন প্রক্রিয়া চলছে। ক্রেনে করে বিগত বছর গুলিতে যেভাবে বিসর্জন দেয়া হতো তাতে খারাপ লাগতো। এবছর নিজেদের প্রতিমা নিজেরা বিসর্জন দিতে পেরে ভালো লাগছে।
